ঢাকা | খ্রি.

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসনে ২৫ বছর পূর্ণ মোদির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 8, 2026 ইং | Photo Card
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসনে ২৫ বছর পূর্ণ মোদির ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জীবনে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মাইলফলক উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় ভাষণ দিয়েছেন মোদি। সেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে সম্পূর্ণ ‘উন্নত ভারত’-এ পরিণত করার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশবাসীর প্রতি ‘আমরাই করব’ মানসিকতা ধারণের আহ্বান জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভারতের থমকে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ বা কারণ নেই। এক শতক আগে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম, আর আজ আমরা ১৪০ কোটি। এই ১৪০ কোটি নাগরিক মিলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলব—এটি নিশ্চিত। আমরা তা করেই ছাড়ব।’

২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন মোদি। একই সময়ের মধ্যে দেশকে বৈশ্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে স্বাবলম্বী করা, অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে শামিল হওয়া এবং মহাকাশ গবেষণায় আরও বড় সাফল্য অর্জনের কথাও বলেন তিনি।

জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোদি বলেন, ‘আমার কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বর, আর কঠোর পরিশ্রমী বিজেপি কর্মীরাই আমার মূল শক্তি।’ তিনি জানান, শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ তাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে, আর সমালোচকদের বক্তব্য তাকে আত্মসমালোচনার সুযোগ দিয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, ‘পঁচিশ বছর আগে, ৫০ বছর বয়সে আমার সময় কাটত বনাঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সেবা করে এবং পাহাড়ের সান্নিধ্যে। পরবর্তীতে আমি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাজের পথ বেছে নিই। আমার রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ছিল কেবল একজন সাংগঠনিক কর্মীর কাজ। আমি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি।’

নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনায় আসার কোনো আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনী রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর মানসিকতা থাকলে আমি অনেক আগেই মাঠে নামতাম। জীবনে কী হবো বা আমার ভবিষ্যৎ কী—তা নিয়ে থামার সময়ও আমার ছিল না। আমার জীবনের একমাত্র দর্শন হলো—শৈশব থেকে আমাকে যা শেখানো হয়েছে, তা হলো কোনো মিশন বা লক্ষ্যের জন্য বাঁচা, কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়।’

নিজ সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদি দাবি করেন, একসময় যা অসম্ভব বলে মনে করা হতো, তা এখন বাস্তব হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বলেন, ভারতের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এখন সবার সামনেই দৃশ্যমান।

ভাষণে ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতার কথাও উল্লেখ করেন মোদি। ককপিটে কো-পাইলটের ছুরিকাঘাতের পরও ইসরায়েলগামী বিমানকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্মিতের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আজ পুরো বিশ্ব ভারতের এই পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একদিন এমন আসবে যখন পুরো বিশ্ব ভারতে তৈরি (মেড ইন ইন্ডিয়া) বিমান নিয়েও কথা বলবে।’

ভারতের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ভোটের রাজনীতি ও সামাজিক বিভাজনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি নতুন স্লোগানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যখন একজন কৃষকের ক্ষেতে পানির অভাব হয়, তখন সেই সমস্যা কি কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতির ওপর পড়ে? যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন কি অন্ধকার কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে? উত্তর হলো ‘না’। সুতরাং সমস্যা যদি সবার হয়, তবে তার সমাধানও হতে হবে সবার জন্য।’

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার দিন এমন টানা ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রা অতিক্রম করবেন—এমনটি কখনো ভাবেননি বলেও জানান নরেন্দ্র মোদি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ