নিজস্ব প্রতিবেদক
কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সাথে বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জীবিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার তীব্র সমালোচনা করে এসবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইরানের ইংরেজি ভাষার বার্তা সংস্থা প্রেসটিভি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও মানুষের জীবিকার ওপর কেন হামলা চালানো হচ্ছে?”
মার্কিন বাহিনীর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা যদি সত্যি যোদ্ধা হয়ে থাকে, তবে তারা যেন আমাদের বীর সামরিক বাহিনীর মোকাবিলা করে। কিন্তু তা না করে কেন সাধারণ মানুষের খাদ্য, পানি ও জীবনযাত্রার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?”
মৌলিক ও জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আরোপিত নানা বিধিনিষেধের চরম সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তারা যদি নিজেদের মানুষ বলে দাবি করে, তবে সাধারণ মানুষকে পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থেকে কেন বঞ্চিত করছে?”
বক্তব্যের শেষাংশে ইরানের চূড়ান্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের জনগণকে ভয় দেখিয়ে নতি স্বীকার করানো যাবে না। ইরান কোনো দিন আত্মসমর্পণ করবে না।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক আগ্রাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষাপটে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এলো। চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সাথে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও একাধিক সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে ওয়াশিংটন, যাতে বিপুলসংখ্যক নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক দশক ধরে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের মতো জরুরি পণ্যের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের এই রক্তপাত ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখেও নিজেদের প্রতিরোধ ও সার্বভৌমত্বের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
নিউজ বাংলা চ্যানেল