বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা সামনে এসেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে ব্যবহারের জন্য তৈরি কম দূরত্বের পারমাণবিক অস্ত্রকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বলা হয়। বড় কোনো শহর বা পুরো দেশ ধ্বংসের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের জন্য এগুলো তৈরি হলেও এসব অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। একই সঙ্গে ব্যাপক এলাকায় পারমাণবিক বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন ও ভারত পুতিনকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বেইজিং মস্কোর কাছে বার্তা পাঠিয়ে ইউক্রেনে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বদলে রাশিয়া আপাতত কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে শক্তিশালী প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে ইউক্রেন তাদের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা রুশ ভূখণ্ডের আরও গভীরে বিস্তৃত করেছে। তেল শোধনাগারের পাশাপাশি বড় ই-কমার্স গুদামগুলোও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে—এ কারণে মস্কো এসব হামলাকে ক্রমেই ন্যাটো দেশগুলোর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সময়ে রাশিয়ার অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে পুতিন গুরুত্ব দেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনই ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে। তিনি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোতে রাশিয়ার পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে হামলা চালিয়ে জোটটির সংকল্প পরীক্ষা না করার বিষয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ চলতি সপ্তাহে মস্কো সফর করেছেন।
জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হলো—আগামী বছরগুলোতে ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে জোটটিকে পরখ করার বিষয়টি পুতিন বিবেচনা করতে পারেন।
তবে এমন পরিস্থিতিতে মস্কো শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ হামলার পথ বেছে নাও নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশও থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
তবে র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, পুতিনের সঙ্গে নয়। যদিও বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো রুশ প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে।
রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা চালাতে পারে—এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে পেসকভ এসব তথ্যকে জল্পনা বলে নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এ ধরণের অনেক ভীতিমূলক গল্প প্রকাশ করা হচ্ছে। স্বভাবতই, বাস্তবের সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।’
নিউজ বাংলা চ্যানেল