জানা গেছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই কিশোরীকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় দোকানদার ও কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করেন।
মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে কিশোরীকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে কোমরে শিকল পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে তারা জানান। তবে কারা তাকে মারধর করেছে বা শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে আটকের পর তাকে দ্রুত পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। কোনো আটক ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার সাধারণ নাগরিকের নেই।
আইনজীবীর মতে, কাউকে কোমরে শিকল বেঁধে প্রকাশ্যে হাঁটানো বা তার ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক চাপ প্রয়োগ করা আইনবিরোধী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শাহপরান থানার ওসি মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর।
ওসি জানান, স্থানীয়রা একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে অর্থ চুরির অভিযোগ করলেও এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কিশোরীকে থানায় আনার পরও স্থানীয়দের কাছ থেকে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়নি। পরে তাকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তবে কিশোরীকে শিকল পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছে।’
নিউজ বাংলা চ্যানেল