ক্ষমতায় গেলে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা কী, তা তুলে ধরেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধানরা। তারা বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে গণমাধ্যমে গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও গণমাধ্যমের প্রধানরা এ বিষয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
এদিন তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে আসনে আসনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন এবং কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্র সাংবাদিকদের কাছে গিয়েও তাদের সঙ্গে হাত মেলান তিনি।
মঞ্চে ওঠার সময় তারেক রহমান দেখেন লালফিতা দিয়ে একটা বেষ্টনী বসানো হয়েছে। তারেক রহমান এই বেষ্টনী সরিয়ে নিতে বললে তা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা কেউ কেউ তারেক রহমানকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি মাইক নিয়ে বলেন, আমার নামের আগে মাননীয় বলবেন না।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান অত্যন্ত আগ্র্রহের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা শোনেন এবং নিজে নোটও করেন। তার পাশে বসা ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনায় শুভকামনা’
অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি একদিনের জন্য বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছুদিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারবো।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী আরও বলেন, আপনি আসতে পেরেছেন। স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন, পরিকল্পনা আছে আপনার। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।
‘তারেক রহমান কত জনপ্রিয় উনি জানেন না’
এদিন সবাইকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়ে দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, আমার বয়স ৯১। বলতে পারেন আমি কিছু হাসিনা-রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এই কারণে বয়স ৯১ তো… অনেক কিছু কথা মনে পড়ে যায়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত আমি সেটা বলবো না।
তিনি বলেন, আমি শুধু জনাব তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি কী? সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন নো দাই সেলফ। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে আমি বুঝতে পারি এই ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম এই বাক্যটি নো দাই সেলফ- এত বড় মূল্যবান কথার অর্থ কী? জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার। তার জানাজায় অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল তখন। আর তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া। তার যখন মহাপ্রয়াণ হলো তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।
দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক আরও বলেন, তারেক জানেন না তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম তখন জেলবন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো। সবচেয়ে বড় কথা- পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করতো, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করতো উনি কেমন? আমি বলতাম- উনি তো লন্ডনে, বহু দূরে আছেন। আর আমি আপনাদের এখানে আছি। এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে। এখন দেখছি তারেক রহমান সময় মেইনটেইন করছেন। আমি লক্ষ্য করছি, তার ওপর কিছু বিলাতি প্রভাব পড়েছে। আমি বলবো, তিনি একজন পরিবর্তিত মানুষ হয়ে গেছেন। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাৎ বঞ্চিত করা, সুচিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিক রেহমান।
খবর- জাগো নিউজ
নিউজ বাংলা চ্যানেল