শনিবার রাতে তুহিন আটকের খবর পাওয়ার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন সোহাগ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন!’
সোহাগের ভাষ্য, তুহিন তাকে একইভাবে কৌশলে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে পুলিশের পরামর্শে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে ওই জিডির কপিও প্রকাশ করেন তিনি।
জিডির বিষয়ে সোহাগ লিখেছেন, ‘সে আমাকেও একইভাবে ডেকে এনে কৌশলে আমার বাইকটি নিয়ে যায়। ওর বিরুদ্ধে যখন আমি মামলা করতে গিয়েছিলাম, তখন সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ আমার মামলা না নিয়ে শুধু একটা জিডি নিয়েছিল। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাদের বলেছিল—ওর মাথার ওপর নাকি কোনো এক রাজনৈতিক দলের বড় নেতার হাত আছে, তাই ওকে যেন কিছু না করা হয়!’
বিচার পেতে অর্থের প্রয়োজন হয়—এমন অভিযোগও করেন সোহাগ। তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন চুপ ছিলাম, কিন্তু আজ বলব—দেশের পুলিশের শুধু পোশাকই পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র নয়! টাকা ছাড়া এই দেশে কোনো কিছুর বিচার পাওয়া যায় না।’
নিজের মোটরসাইকেল হারানোর বিষয়টিকে বড় করে না দেখে অপরাধের শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। সোহাগ বলেন, ‘আমার বাইক চুরি গেছে, সেটা নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। কিন্তু আমি মনে করি, ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়। সেদিন যেই নেতার পাওয়ার দেখিয়ে ওকে আইন থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, আজ ওকে কিভাবে বাঁচাবেন?’
জিডিতে যা উল্লেখ রয়েছে
জিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সালমানপুর এলাকায় অলি মিয়ার দোকানের সামনে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জিডিতে বলা হয়েছে, তুহিন ছিলেন সোহাগের পূর্বপরিচিত। তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল এবং তুহিন আগে থেকেই সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ ও চলাফেরা করতেন।
এর আগে ২৭ মার্চ ২০২৫ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের সিটি বাইক থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পরে তুহিন প্রায়ই ওই মোটরসাইকেলটি চালাতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তুহিন ফোন করে সোহাগের কাছে মোটরসাইকেলটি চান। পরে সোহাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মোটরসাইকেলটি দেন। এরপর সোহাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি দোকানে গিয়ে বসেন। কিছু সময় পর তুহিন তাকে জানান, মোটরসাইকেলটি আর তার কাছে নেই। এরপর সেটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সোহাগ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। বিষয়টি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে আলোচনা করতেও সময় লাগে। পরে তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গতকাল থেকে জিডির কপিটা আমরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু গতকাল অপ্রতিম হত্যা মামলা নিয়ে তদন্তের কাজ করায় জিডির কপিটা সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে এটি নিয়ে আমরা আরো ভালোভাবে যাচাই করব।’
নিউজ বাংলা চ্যানেল