এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গালিবাফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। এর মধ্যে ইরানের জনগণের অধিকার স্বীকার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণসহ কয়েকটি শর্ত রয়েছে।
গালিবাফ বলেন, শর্তগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের আলোচনার কাঠামোয় ফেরার কোনো সুযোগ নেই। একই কারণে হরমুজ প্রণালিও পুনরায় খোলার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহনে এই জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কমে গেলে তার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়তে পারে।
গালিবাফের বক্তব্যের আগে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে তার জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলে থাকা দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ইরানি সামরিক কমান্ড সম্ভাব্য এই হামলাকে ‘অবিরাম, কার্যকর ও বেদনাদায়ক’ হবে বলে উল্লেখ করেছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাকেও অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান।
এদিকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কমান্ডটি জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মার্কিন বাহিনী।
ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অভিযানও আবার শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই থেকে এই কার্যক্রম চলছে।
ইরান তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন না আনলে দেশটিকে বড় ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধে তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। এসব শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমঝোতার কথা জানানো হয়নি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এমন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার হুমকিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগ বা বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল