শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইকুয়েডরের একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। ৭৩ বছর বয়সী মোরেনোর সঙ্গে দুর্নীতির মামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, দুই ভাই, ভাবি এবং ইকুয়েডরে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুওকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া বিতর্কিত ‘কোকা-কোডো সিনক্লেয়ার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনোহাইড্রো’ ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ৭৬.১ মিলিয়ন (৭ কোটি ৬১ লাখ) ডলার ঘুষ দেয়। তদন্তে উঠে আসে, ভুয়া পরামর্শক চুক্তি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব এবং ট্যাক্স হ্যাভেনে নিবন্ধিত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন করা হয়েছিল।
২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোরেনো ও তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি অন্তত ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।
মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা বলেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের যে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ এনেছে, তা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায়ে মোরেনোর স্ত্রী, কন্যা এবং ভাই-ভাবিদের দুই বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুওকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা লেনিন মোরেনো শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
মামলার বিচার মোকাবিলা করতে প্যারাগুয়ে থেকে ইকুয়েডরে ফিরে আসা সাবেক এই প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার বক্তব্য, প্রকল্পটির চুক্তি করা বা তদারকির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রসিকিউশন প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে মামলা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল