ঢাকা | খ্রি.

পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 ইং | Photo Card
পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতাকে স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে দেখতে নারাজ সরকার। সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় পৃথক একাধিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোনো অমীমাংসিত দাবি-দাওয়া নেই। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক তদন্তে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত চক্রান্তের মাধ্যমে দেশের শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পরপর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার আগেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হলেও নাম পাওয়ার পরপরই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক ও শিল্পবান্ধব। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সরকারের মূল লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর অনেক সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তারা সংযম প্রদর্শন করেছেন। তবে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত অপরাধী চক্রকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এ সময় সাধারণ শ্রমিকদের গুজব ও উসকানিতে কান না দিয়ে অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকদের কাজে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়তে চায় সরকার

এদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যের গতিশীলতাও বজায় রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে মানবাধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত ভ্রমণ পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের চাহিদা বিবেচনায় কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা করতে আইওএম আগ্রহী।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ