ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ জানান, সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গালিবাফ বলেন, ইরানের জনগণের প্রতিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়েছে। গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তারা ইরানকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা কোনো দাবি তেহরান মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে এবং ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ও চূড়ান্ত। সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করা এবং পরবর্তী আলোচনার সুযোগ তৈরি করাই ছিল ওই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সমঝোতাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য একটি রোডম্যাপও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আলোচনার রাজনৈতিক তদারকির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছিল।
সমঝোতার কাঠামো অনুযায়ী, দুই দেশের প্রধান আলোচকেরা নিয়মিত ওই কমিটিকে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ ছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে কয়েকটি কর্মদল গঠনের পরিকল্পনাও ছিল। সমঝোতার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও এতে রাখার কথা ছিল।
তবে জুলাইয়ে ওই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল