ঢাকা | খ্রি.

শ্রমিক আন্দোলনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস সংকট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং | Photo Card
শ্রমিক আন্দোলনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস সংকট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গণপরিবহণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাসে উঠতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা থেকে গাজীপুর ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদেরও।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা, কলেজ গেট, চেরাগ আলী, মিল গেট, স্টেশন রোড, টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, হাউজ বিল্ডিং, বিএনএস ও জসিমউদ্দীন রোড এলাকা ঘুরে গণপরিবহণ সংকটের এমন চিত্র দেখা যায়। এসব এলাকায় ঢাকাগামী বাসের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। কোথাও কোথাও যানবাহনের ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কোনো বাস স্টেশনে থামার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে ওঠার জন্য যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। অধিকাংশ বাস আগে থেকেই যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকায় অনেকেই উঠতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের সন্ধান করছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে বাসে উঠছেন।

কলেজ গেট এলাকায় বাসের অপেক্ষায় থাকা রবিউল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বাসের দেখা মিলছে খুব কম। দু-একটি বাস এলেও তাতে তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। বাস থামার সঙ্গে সঙ্গে ওঠার জন্য সবাই হুড়োহুড়ি করছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চেষ্টা করেও বাসে উঠতে পারছেন না তিনি। এভাবে চলতে থাকলে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরেই শ্রমিক আন্দোলনের কারণে যাতায়াতে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান এই যাত্রী।

একই পরিস্থিতির কথা জানান সাইফুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, সড়কে বাসের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। একটি বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাস এলেও ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে গাদাগাদি করে উঠছেন, আবার অনেকেই বাসে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে কর্মস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার, বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়কে অবস্থানের কারণে গণপরিবহণ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ৩১ অক্টোবর থেকে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন চলছে। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বেতনে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের মধ্যে গত ২ নভেম্বর গাজীপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) আহত হন। পরদিন ৩ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়ক পরিবহণেও এর প্রভাব পড়ছে।

শ্রমিকদের আন্দোলনে একদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে গণপরিবহণ সংকটে প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না এলে এই জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা