রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রীদের হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। আয়োজকদের মতে, নারীশিক্ষার প্রসার, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সাইকেল পেলে ছাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে, একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ এ সেবা পেয়েছেন। এর আগে প্রথম দিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।
সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও উদ্যাপন করেছেন তিনি। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নারীশিক্ষার অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। মেয়েরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া ব্যক্তিরা এখন অনুশোচনা করছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় তারা মাথায় টুপি পরে ঢাকের তালে নেচেছে, কিন্তু এবার ভোট না থাকায় তাদের পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। মুসলমানদের বেহেশতের প্রলোভন দেখানোও বন্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, জামায়াত ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের কথা ভাবে না। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সন্তান তারেক রহমান ফ্যামিলী কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপন, জনগণের দোঁড়গোড়ায় স্বাস্হ্যসেবা, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আমি আমার আসনের সবার চোখের সমস্যা দূর করতে চাই। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রুপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া করা হয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল