ঢাকা | খ্রি.

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি আড়ালের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 17, 2026 ইং | Photo Card
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি আড়ালের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও শিল্প স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব হামলার প্রকৃত প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, উপগ্রহচিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে অমিল পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পর সরকারি বিবরণে ক্ষয়ক্ষতির সীমিত চিত্র তুলে ধরা হলেও বিভিন্ন স্বাধীন পর্যবেক্ষণে আরও গুরুতর ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হামলার প্রকৃত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদি আরবের ধাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার পর দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় সীমিত অগ্নিকাণ্ডের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, হামলায় ভবনটির ওপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মধ্যে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আমিন নাসেরের কার্যালয়ও ছিল। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং জানালা ও দরজা উড়ে যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলার প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রটির একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চারটি চুল্লির একটিতে জরুরি ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নকশা এবং উপকেন্দ্রের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ছিল।

কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাতেও হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে গ্যাস তরলীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ‘কোল্ড বক্স’ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের বিশেষায়িত সরঞ্জাম তৈরি ও প্রতিস্থাপনে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে এ ধরনের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক উৎপাদনেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিয়েও সরকারি বক্তব্য ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণের মধ্যে অমিলের তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ মার্চের হামলায় বন্দরের দুটি তেলের ট্যাংকে আগুন ধরে যায়, যা কয়েক দিন ধরে জ্বলেছিল। পরবর্তী হামলাগুলোতে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইন ম্যানিফোল্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আমিরাতের কর্মকর্তারা কিছু ক্ষয়ক্ষতির জন্য আকাশ থেকে পড়ে আসা ধ্বংসাবশেষকে দায়ী করলেও রয়টার্সের পর্যালোচনা করা উপগ্রহচিত্রে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্চে আরেকটি হামলায় একই ধরনের আরও একটি ম্যানিফোল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্চের শেষ নাগাদ বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মে মাসে ফের হামলা হয়। এতে আগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ম্যানিফোল্ডের সঙ্গে যুক্ত পাইপলাইনে ড্রোন আঘাত হানে। পরিশোধিত জ্বালানির রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রামানান কৃষ্ণমূর্তি আমিরাতের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, হামলাগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কেন্দ্রীয় অংশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। এতে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে উপগ্রহচিত্র এবং অন্যান্য স্বাধীন তথ্যের গুরুত্ব সামনে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান। এর প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনায় হামলার ফলে উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে সরকারি বিবরণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, উপগ্রহচিত্র ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের মধ্যে অসংগতি তুলে ধরা হলেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যের মাধ্যমে সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং সরকারি বিবরণের সমন্বিত মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার