ঢাকা | খ্রি.

জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাতে বিপন্ন বরগুনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 18, 2026 ইং | Photo Card
জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাতে বিপন্ন বরগুনা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীভাঙনে হারাচ্ছেন বসতভিটা, লবণাক্ততায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি, আর সুপেয় পানির অভাবে বাড়ছে দৈনন্দিন দুর্ভোগ। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার অভিঘাত—সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী ঝুঁকিতে বিপর্যস্ত উপকূলীয় জেলা বরগুনা। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক পরিবার। কৃষি, মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর এই জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ থাকলেও নিরাপদ বসতি, সুপেয় পানি, টেকসই কৃষি ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বঙ্গোপসাগরের উপকূলঘেঁষা বরগুনার অর্থনীতি অনেকাংশে কৃষি, মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদ এবং উপকূলীয় জনপদ ঘিরে গড়ে ওঠা মানুষের জীবনযাত্রা প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন ও বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি এই নির্ভরশীলতাকে ক্রমেই সংকটাপন্ন করে তুলছে।

জেলার তালতলী, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত মে মাসে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়ী এলাকায় পায়রা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের একটি অংশে ফাটল ও মাটিধসের ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের জনপদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

নদীভাঙনে মানুষ শুধু জমি বা বসতঘর হারান না; হারান দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, গাছপালা, জীবিকার অবলম্বন ও সামাজিকভাবে গড়ে তোলা পরিচিত পরিবেশ। নতুন করে ঘর নির্মাণ, অন্যত্র বসতি স্থাপন এবং জীবিকা পুনর্গঠনের ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। স্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়।

এমনই বাস্তবতার শিকার বরগুনা জেলা শহরে বসবাসরত হযরত আলী হাওলাদার। একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি জীর্ণ ঘরে দিন কাটছে তাঁর।

নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে হযরত আলী বলেন, ‘একসময় নিজের ঘরবাড়ি ছিল, সংসার চলত। কখনো ভাবিনি নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য জায়গায় এসে এভাবে থাকতে হবে। নদীভাঙনে সব হারানোর পর আগের অবস্থায় আর ফিরতে পারিনি। এখন এই ছোট, জীর্ণ ঘরেই দিন কাটে। আগে নিজের জমি ও বাড়ি নিয়ে যে নিশ্চিন্ত জীবন ছিল, এখন সেই নিশ্চয়তা নেই।’

হযরত আলীর মতো ভাঙনকবলিত মানুষের সংকট মূলত বাস্তুচ্যুতি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও জীবিকা হারানোর সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে এই জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপেয় পানির সংকটে বাড়তি দুর্ভোগ

বরগুনার উপকূলীয় জনপদে লবণাক্ততা নিরাপদ পানির প্রাপ্যতাকে কঠিন করে তুলছে। কিছু এলাকায় পুকুর, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসে লবণাক্ততার ঝুঁকির কারণে পানযোগ্য পানি সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। নিরাপদ পানির উৎস চিহ্নিত করতে স্থানভিত্তিক পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার জরিনা বেগমের প্রতিদিনের জীবনেই ফুটে উঠেছে এ সংকটের চিত্র। পরিবারের রান্নাবান্না, পান করা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য তাঁকে দূরের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে।

জরিনা বেগম বলেন, ‘সংসারের রান্নাবান্না, খাওয়া আর ছেলেমেয়েদের জন্য নিরাপদ পানি জোগাড় করতে অনেক কষ্ট হয়। কাছাকাছি সব জায়গার পানি পান করার উপযোগী নয়। তাই দূরের উৎস থেকে পানি আনতে হয়। পানি সংগ্রহ করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। আমাদের এলাকায় নির্ভরযোগ্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না।’

উপকূলের এই পানিসংকট নারীদের ওপর বাড়তি শ্রমের বোঝা তৈরি করছে। একই সঙ্গে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী উৎস তৈরি, বিদ্যমান জলাধার সংরক্ষণ এবং পানির মান নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

কৃষিতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে আয়ের নিশ্চয়তা

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বরগুনার কৃষিও চাপে পড়েছে। লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল, বীজতলা, পুকুর ও গবাদিপশু। অন্যদিকে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।

তালতলী উপজেলার কৃষক আবদুল করিমের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এই সংকটের বাস্তব চিত্র। জমিতে লবণাক্ততার প্রভাব ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় সংসার চালানো এবং পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদের অর্থ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাঁকে।

আবদুল করিম বলেন, ‘জমিতে ঠিকমতো ফসল না হলে আমাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। চাষ করতে আগে টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টি আর জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে ফসল নষ্ট হলে সেই টাকা আর ওঠে না। তখন ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। জমি আছে, কিন্তু জমি থেকে আগের মতো আয় হয় না। নেই জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা।’

কৃষকদের এই সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের সম্প্রসারণ, মাটির লবণাক্ততা পরীক্ষা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের সময়োপযোগী কৃষি পরামর্শ, সহজ শর্তে ঋণ, ফসলের উপযোগী জাতের ব্যবহার এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য কার্যকর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈরী আবহাওয়ায় অনিশ্চিত জেলেদের জীবন

বরগুনার অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত মৎস্য আহরণ। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে না পারলে জেলেদের আয় বন্ধ থাকে। নৌকা ও জাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার কাজে ফিরতে প্রয়োজন হয় বাড়তি অর্থের। ফলে দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অনেক জেলে পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া কিংবা জেলেদের আয়হানির সব কারণকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে দেখা যায় না। অতিরিক্ত আহরণ, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বাজারদর এবং পরিচালন ব্যয়ের মতো বিষয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলেদের সুরক্ষায় দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, নিরাপদ আশ্রয়, নৌযানের নিরাপত্তা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সংকটকালীন আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির পরিচিত ছন্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উপকূলের মানুষের উদ্বেগ শুধু অর্থনীতি বা জীবিকা ঘিরে নয়; প্রকৃতির পরিচিত বৈশিষ্ট্য নিয়েও তাঁদের মধ্যে পরিবর্তনের অনুভূতি রয়েছে। বরগুনা সদরের বড় লবণগোলা জামে মসজিদের ইমাম মো. নজরুল ইসলাম মনে করেন, ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও পরিচিত ছন্দে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছয় ঋতুর বাংলাদেশের যে পরিচিত রূপ আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, এখন তার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক অমিল মনে হয়। কখনো দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরম, কখনো অসময়ে বৃষ্টি, আবার শীতও ঠিক সময়ে অনুভব করা যায় না। প্রকৃতির পরিবর্তন দেখে আগে অনেকটা বোঝা যেত কোন ঋতু চলছে। এখন সেই স্বাভাবিক ছন্দ যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।’

তাঁর এই পর্যবেক্ষণ আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। তবে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত পরিবর্তন নির্ধারণে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় প্রভাব

জলবায়ুজনিত দুর্যোগের প্রভাব স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। দুর্যোগের পর পানির উৎস দূষিত হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত গরমে কৃষক, জেলে ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ব্যাহত হয়।

একই পরিবারের ওপর বারবার দুর্যোগের আঘাত এলে আয় কমে যায়, সঞ্চয় শেষ হয় এবং ঋণের বোঝা বাড়ে। তখন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যয়ের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত সংকট নয়, এটি ক্রমেই জীবিকা, দারিদ্র্য ও সামাজিক সুরক্ষার সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা, বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধ, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসন, লবণাক্ততা মোকাবিলা, বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং সরকারি সেবা জোরদার করা জরুরি।

সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে টেকসই সমাধান

বরগুনার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণ এবং জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষির সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো, আগাম সতর্কবার্তা মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উপকূলের সাধারণ মানুষ দায়ী না হলেও এর অভিঘাত তাঁদের জীবনেই সবচেয়ে কঠিনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। নদী, সাগর ও কৃষিজমিনির্ভর বরগুনার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকা রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলার তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনা জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সাময়িক বরখাস্ত আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

সাময়িক বরখাস্ত আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২