ঢাকা | খ্রি.

হরমুজে হামলা বাড়লেও ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ’ হওয়ার দাবি ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 15, 2026 ইং | Photo Card
হরমুজে হামলা বাড়লেও ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ’ হওয়ার দাবি ট্রাম্পের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদন

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের অবসান কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডারব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধের সমাপ্তি খুব কাছাকাছি বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে এসব দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে ধরেননি তিনি।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, দেশটির প্রথম সারির নেতাদের হারানোর পর দ্বিতীয় সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁরাও নিহত হয়েছেন। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁদের অর্ধেক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা প্রথম সারির নেতাদের হারিয়েছে। এরপর দ্বিতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছিল। তাদেরও হারিয়েছে। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছে। তাদের অর্ধেকও চলে গেছে। তারা আমাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিল। আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

তবে ইরানের নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি এবং এ-সংক্রান্ত কথিত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি।

আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়েও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সামরিক হামলার মধ্যে কার সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমি একটু বেশি দূর এগিয়ে গেছি। এ জন্য দুঃখিত। কারণ, এখন আর বুঝতে পারছি না, আমরা আসলে কার সঙ্গে কথা বলছি।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যে একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা, অন্যদিকে আলোচনার পক্ষ ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে আলোচনার বর্তমান অবস্থা কিংবা সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানতাম, পেট্রলের দাম বাড়বে। কিন্তু এতটা বাড়বে, তা ধারণা করিনি।’

এর আগে গত ৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং আলোচনার অনিশ্চয়তা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

হরমুজে বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রয়টার্সের ১৪ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জাহাজে হামলার কৌশল ও পরিধি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় কাফকো লেডিস ক্লাবে সেমিনার

নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় কাফকো লেডিস ক্লাবে সেমিনার