ঢাকা | খ্রি.

৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 6, 2026 ইং | Photo Card
৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রায় ৭০ বছর পর ভারতের আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের নৌপথ আবার চালু হয়েছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক নৌযাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত মিথানলটি ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরে নেওয়া হচ্ছে। জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ‘জাতীয় জলপথ-২’ ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। এরপর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ (আইবিপিআর) দিয়ে এগিয়ে যাবে গন্তব্যের দিকে।

বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পুরো নৌপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের যোগাযোগে ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, এই যাত্রার মাধ্যমে মূলত সেটিই যাচাই করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, ‘আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের সিটি শুনে বড় হয়েছেন। দীর্ঘ ৭০ বছর সেই সিটি বন্ধ ছিল, জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ আবারও ডিব্রুগড় থেকে বিশ্বের উদ্দেশে জাহাজ যাত্রা করল। নদী আমাদের কখনোই প্রতারিত করেনি, অভাব ছিল শুধু এটি পুনরুজ্জীবিত করার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির।’

একসময় পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোর একটি ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সালের মধ্যেই তৎকালীন কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার ডিব্রুগড়ে পৌঁছাত। পরে ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’ চালু করা হয়। ১৯১৩ সালের মধ্যে চা, কাঠ ও যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন স্টিমার চলাচল করত এই ঘাটে।

তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এই ঐতিহ্যবাহী নৌপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে আসামের পণ্য কলকাতায় পাঠাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়। পরে ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ডিব্রুগড় এলাকায় নদীর তলদেশের পরিবর্তন ঘটে।

এরপর চা পরিবহন ধীরে ধীরে রেলপথনির্ভর হয়ে পড়ায় ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় ঘাট থেকে নিয়মিত বুকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নদীপথে বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রোটোকল স্বাক্ষর করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে ‘জাতীয় জলপথ-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আবারও কাজী সালাহউদ্দিনই হচ্ছেন সাফের সভাপতি

আবারও কাজী সালাহউদ্দিনই হচ্ছেন সাফের সভাপতি