বিবিসি জানিয়েছে, রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং সাংবাদিক ও উপস্থাপক হিসেবেই এতদিন কিজানাঙ্গোমা বেশি পরিচিত ছিলেন। উগান্ডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজ করার পাশাপাশি দেশটি ও প্রতিবেশী রুয়ান্ডায় দুই দশকের বেশি সময় সাংবাদিকতা ও সম্প্রচার পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
তবে তাকে তোরোর রাজা নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এর আগে তোরোর রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি চতুর্থ গত মাসে ৩৪ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। মাত্র তিন বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন।
তোরোর প্রথা অনুযায়ী, কোনো প্রয়াত রাজার স্বীকৃত ছেলে থাকলে সাধারণত তাকেই পরবর্তী রাজা করা হয়। রাজপরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজা ওয়ো একটি উইল রেখে গেছেন, যেখানে তার ছেলেকে উত্তরসূরি করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে ওই ছেলেকে কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাজা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বাবিতো বংশের ২১ সদস্যের কমিটিও তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরে ওই কমিটি কিজানাঙ্গোমাকে নতুন রাজা হিসেবে বেছে নেয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা। তার বক্তব্য, তার ছেলের উইলকে সম্মান জানানো উচিত ছিল।
অন্যদিকে রাজা নির্বাচনের কমিটি জানিয়েছে, তোরোর প্রচলিত রীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করেই কিজানাঙ্গোমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কিজানাঙ্গোমা ও প্রয়াত রাজা ওয়ো চাচাতো ভাই। দুজনেই তোরোর ১১তম রাজা জর্জ ডেভিড ম্যাথিউ কামুরাসি রুকিডি তৃতীয়ের নাতি।
রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে তোরোতে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কিজানাঙ্গোমা প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে যান। সেখানেই তার রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়।
রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একা কাজ করা সম্ভব নয়; জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তোরোর তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী চার্লস মওয়াঙ্গুহিয়া বলেন, কিজানাঙ্গোমাকে রাজা নির্বাচনের পর পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তার রাজ্যাভিষেকের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনিও উপস্থিত ছিলেন।
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। ১৯৬৭ সালে দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার সেগুলো পুনর্বহাল করে। বর্তমানে উগান্ডায় চারটি প্রধান ঐতিহাসিক রাজ্য রয়েছে, যার একটি তোরো।
কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। ফোর্ট পোর্টালের কিডুকুরু গ্রামে বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৯ সালে মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সম্প্রচারমাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা জানিয়েছেন, সাংবাদিকতা ও সম্প্রচার পেশায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তৈরি হওয়া যোগাযোগ ও সম্পর্কগুলো তিনি তোরোর মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।
নিউজ বাংলা চ্যানেল