নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাড্ডায় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সহযোগী সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে তাঁরা দলটিতে যোগ দেন। যোগদানকারীদের মধ্যে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কওমি আলেম, মাদ্রাসার মুহতামিম, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী, বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে যোগদানকে শুধু রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, ইসলামকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন সদস্যরা দলটিতে যুক্ত হয়েছেন।
জামায়াতের সাবেক দুই নেতা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সততার নজির স্থাপন করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
ইসলামের মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে রেজাউল করিম বলেন, ইসলাম মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সমর্থন করে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পদ, সম্মান ও অধিকার রক্ষার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর দাবি, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।
তিনি বলেন, ইসলামের উদারতা, মহানুভবতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজেদের যোগ্য ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, একসময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁদের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ ও অবস্থান করতে বাধার মুখে পড়তে হতো। জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেন রেজাউল করিম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি গণভোট প্রত্যাখ্যান করে ৭০ শতাংশ মানুষকে অবজ্ঞা করেছে। এ ছাড়া মিরপুরে একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়নি।
সরকারের মেয়াদ ও কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, তাঁরা ছয় মাসের সরকারকে সরিয়ে দিতে চান না; বরং সরকার পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করুক, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা। তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না হলে সরকার জনসমর্থন হারাতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রেজাউল করিম আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে লুটপাট, অবিচার ও অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত থাকলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি উঠতে পারে। একই সঙ্গে তিনি নতুন যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল