নিউজ বাংলা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্গাসের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকদের অপরিশোধিত তেল রফতানি দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি নেমেছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ধাক্কা লাগলেও বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে হলেও তেল পরিবহন অব্যাহত থাকা। রাইস্ট্যাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিম্বার্থির মতে, ৩০ আগস্ট সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। সংঘাতের পর এই প্রবাহ কমে গেলেও দৈনিক গড় পরিবহন এখনো প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেলের মধ্যে রয়েছে।
তবে বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ আরও কমে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ দিয়ে এখনো যে পরিমাণ তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে, সেটিই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ধরে রাখছে।
বিকল্প পথে তেল সরবরাহ
হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ বাড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোও বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহার করছে। এর মধ্যে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর বা ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’ অন্যতম।
সৌদি আরবও বিকল্প রফতানি পথ সক্রিয় করেছে। রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল উত্তোলন পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি মিশরের সিদি কেরির বন্দরকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আগস্টে এই পথ দিয়ে সৌদি আরবের দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ৩৯ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে, যা জুনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতও তাদের তেল রফতানি অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে এনেছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের তেল রফতানি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল