ঢাকা | খ্রি.

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 7, 2026 ইং | Photo Card
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে নতুন আচরণবিধিতে কঠোর বিধান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বর এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে প্রণীত এই বিধিমালায় ভোট কেনাবেচা এবং এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ঠেকানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। একইভাবে এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য ভোটারদের মোবাইল নম্বরও নেওয়া যাবে না।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নতুন কাঠামোয় দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রণয়ন করেছিল। ওই নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইসি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল আচরণবিধিতে এবারই প্রথম এ ধরনের কার্যক্রমকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

নতুন আচরণবিধি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সংসদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আচরণবিধি আমরা চূড়ান্ত করেছি।’

তিনি জানান, বিধিমালায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকানো, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশবান্ধব প্রচারণার বিষয়ও রাখা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি জারি করা হবে।

প্রচারে যেসব বিধি মানতে হবে

নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে রঙিন ও কাগজের পোস্টার ছাপানোর ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচার চালানো যাবে না।

ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন প্রচারসামগ্রীর নির্ধারিত মাপও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এসব সামগ্রী সাদা-কালো রঙে তৈরি করতে হবে।

ব্যানারের সর্বোচ্চ আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর সাইজের, অর্থাৎ ৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের মাপ সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ডের আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রাখা হয়েছে।

প্রচারে ব্যবহৃত প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা কোনোভাবেই ৬ ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে এবং পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। লিফলেট ও ফেস্টুনে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা বক্তব্যও রাখা যাবে না।

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন পদ

নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে তালিকা রয়েছে, নতুন আচরণবিধিতে সেখানে আরও কয়েকটি পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়রের পাশাপাশি এবার মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম নতুন আচরণবিধিকে আগের তুলনায় বেশি সুসংহত বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এবারের আচরণবিধি আগের চেয়ে বেশ সুসংহত (কমপ্রিহেনসিভ) মনে হয়েছে। গত নির্বাচনে এনআইডি নেওয়া ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের যে অপচর্চা দেখা গিয়েছিল, তা সরাসরি বিধিমালায় আসায় প্রার্থীরা সতর্ক হবে এবং ইসিও সহজে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

তবে বিধিমালার কিছু দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বা সচিব পদমর্যাদার রাজনৈতিক সহকারীদেরও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় যুক্ত করা উচিত ছিল। কারণ তারা সরকারি কর্মকর্তা না হলেও সচিব পদমর্যাদা ভোগ করেন, যা আচরণবিধিতে না থাকলে তাদের আটকানো কঠিন হবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দলীয় হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অনানুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে আচরণবিধিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘দলগুলোর ভূমিকা কতটুকু থাকবে বা তারা কিভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবে—সে বিষয়টি আচরণবিধিতে আরো স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ