নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহিষ্ণুতা বজায় রেখে দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মের পরিচয়ে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নন—দেশের সব নাগরিকই বাংলাদেশি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গোষ্ঠী অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সমাজবিরোধী কোনো অপশক্তি যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন জনগণের মধ্যে বিরোধ তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার পরামর্শ দেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নয়জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন। একই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও পথচারীদের প্রতি হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন।
নিউজ বাংলা চ্যানেল