ঢাকা | খ্রি.

গ্রামীণ গাছকে কার্বন সম্পদে রূপান্তরের উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল গাকৃবির ‘কার্বডিট’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং | Photo Card
গ্রামীণ গাছকে কার্বন সম্পদে রূপান্তরের উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল গাকৃবির ‘কার্বডিট’ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ মানুষের বাড়ির আঙিনায় থাকা গাছকে জলবায়ু অর্থনীতির সম্ভাব্য সম্পদে রূপান্তরের অভিনব ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দল ‘কার্বডিট’ (CARBODIT)। ‘CIRDAP–REEDS International Rural Development Innovation Challenge-2026’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্বাচিত সেরা পাঁচ উদ্ভাবনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তারা।

কার্বডিট দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাইফুল্লাহ মানওয়ার। তিনি দলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ফাবিয়ান তাসকিন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, অদিতি ঘোষ প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং আরফা সাইয়ারা রিজা ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশ থেকে মোট ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক বিচারক কমিটির কঠোর ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা উদ্ভাবনগুলো নির্বাচন করা হয়।

গত ৬ জুলাই সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কার্বডিট দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার প্রদান করেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতির পর কার্বডিট দলের সামনে এসেছে আরও বড় সুযোগ। আগামী ৬ থেকে ১০ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘এশিয়া প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এ নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, গবেষক ও উদ্ভাবকদের সামনে বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতার আলোকে তৈরি কার্বডিটের মডেল তুলে ধরবেন গাকৃবির তরুণ উদ্ভাবকেরা।

কার্বডিটের উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পরিবারের মালিকানাধীন গাছগুলোকে সমষ্টিগতভাবে পরিমাপযোগ্য কার্বন সম্পদে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে এসব গাছকে বৈশ্বিক কার্বন বাজার ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে গাছের মালিকরা পরিবেশ রক্ষায় তাদের অবদানের আর্থিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ উদ্যোগে স্থানীয় তরুণদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছের তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন সম্পদ তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি কমিউনিটিভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলাই কার্বডিটের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে গ্রামীণ তরুণদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ।

গাকৃবির শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, গাকৃবি জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় অবস্থান অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জনের অন্যতম অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অর্জন ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কার্বডিটের সাফল্যকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সমাধান তৈরির একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে এ উদ্যোগ।

গাকৃবির শিক্ষার্থীদের এ উদ্ভাবন প্রমাণ করেছে, সঠিক ধারণা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও তরুণদের নেতৃত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতা থেকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্ভাবন তৈরি করা সম্ভব। কার্বডিটের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাই দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং জলবায়ু অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ব্যক্তিগত কম্পিউটারে চালানো যাবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ গ্লিমা

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে চালানো যাবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ গ্লিমা