ঢাকা | খ্রি.

‘গলাকাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার: দুই হাতে পিস্তল চালানো শুটার, পুলিশের ওপরও গুলি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 30, 2026 ইং | Photo Card
‘গলাকাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার: দুই হাতে পিস্তল চালানো শুটার, পুলিশের ওপরও গুলি ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘কালা মোবারক’ ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৬ আগস্ট ফটিকছড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও চারটি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের হাছি চৌধুরী বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে মোবারক একসময় রংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তবে ২০১৪ সালে মো. বাবু নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অপরাধজগতে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিতি পান।

পুলিশের দাবি, পরবর্তী সময়ে মোবারক চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের ঘটনায় মোবারকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্র চালনায় দক্ষতার কারণে অপরাধীদের কাছে তার আলাদা গুরুত্ব ছিল। পুলিশ বলছে, দুই হাতে একসঙ্গে পিস্তল চালাতে পারতেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে সংঘটিত কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজেও মোবারকের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ফুটেজে প্রকাশ্যে গুলি চালানো, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা এবং দুই হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে গুলি করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার দৃশ্য রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পর ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করতেন মোবারক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার এলাকায় ফিরে এসে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তেন।

পুলিশের তথ্যমতে, শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত নাছির উদ্দিনের হাত ধরে মোবারক অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। নাছির গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবু তৈয়বের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তৈয়বের সঙ্গে মোবারকের একাধিক ছবি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক দাবি করেছেন, ডেভিড ইমনের কাছ থেকেই তিনি অস্ত্র চালানো শিখেছেন। দুই হাতে অস্ত্র চালানো তার শখ বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে মোবারককে দুই হাতে অস্ত্র চালাতে দেখা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের আগেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান মোবারক। ২৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে পুলিশের দাবি। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন তিনি।

পুলিশের দাবি, যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী, সরোয়ার বাবলাসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডে মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পৃথক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডলারের দুর্বলতায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

ডলারের দুর্বলতায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম