আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া অশ্বিন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পুরোনো সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। ২০১১-১২ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দেশে ফেরার সময় মাঞ্জরেকারের লেখা একটি কলাম পড়েন তিনি। সেখানে অশ্বিনের ফিটনেস নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এবং করা হয়েছিল কড়া সমালোচনা।
লেখাটি পড়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন অশ্বিন। তবে সেই রাগকে অন্যভাবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সমালোচনার জবাব মুখে না দিয়ে নিজের শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন।
এক অনুষ্ঠানে অশ্বিন বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পথে মাঞ্জরেকারের পুরো লেখাটি পড়ে তাঁর খুব রাগ ও খারাপ লেগেছিল। তবে এরপর তিনি কথা না বলে নিজের কাজের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী চার বছর কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি, কারণ জন্মগতভাবে নিজেকে অ্যাথলেট মনে করতেন না।
অশ্বিনের সেই পরিশ্রমের প্রতিফলনও দেখা যায় কয়েক বছরের মধ্যেই। ২০১৫ সালে তাঁর কার্যকর বোলিং নিয়ে আবারও কলাম লেখেন মাঞ্জরেকার। এবার অবশ্য সমালোচনা নয়, ছিল প্রশংসা।
মাঞ্জরেকারের সেই প্রশংসামূলক লেখা দেখার পর তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে বার্তা পাঠান অশ্বিন। সেখানে তিনি জানান, মাঞ্জরেকারের পুরোনো সেই কলামই তাঁর জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কঠোর সমালোচনার মধ্য থেকেও ইতিবাচক কিছু শেখার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
ভারতকে টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিশালী দলে পরিণত করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অশ্বিনের। ১০৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২৪ গড়ে তাঁর শিকার ৫৩৭ উইকেট। ওয়ানডেতে ১১৬ ম্যাচে নিয়েছেন ১৫৬ উইকেট এবং ৬৫টি টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৭২।
বল হাতে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। টেস্ট ক্রিকেটে ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৪টি ফিফটিসহ তাঁর মোট রান ৩ হাজার ৫০৩।
নিউজ বাংলা চ্যানেল