ঢাকা | খ্রি.

চোখের চিকিৎসার পর শিশুর মৃত্যু, নোয়াখালীতে চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং | Photo Card
চোখের চিকিৎসার পর শিশুর মৃত্যু, নোয়াখালীতে চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : নোয়াখালী সদর উপজেলার একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ১৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে কাউকে না পেয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। এ ঘটনায় শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিশুটির চিকিৎসা করা আবুল হোসেনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী পৌরসভার দত্তেরহাট এলাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।

নিহত মো. মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। চরবসু গ্রামটি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে মোসলেমের চোখে জখম হয়। আঘাতের পর চোখে রক্ত জমে যায় এবং সেটি ফুলে ওঠে। পরে তার মা-বাবা তাকে চেউয়াখালী বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। জখম গুরুতর হওয়ায় ওই চিকিৎসক চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর মোসলেমকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে ‘বড় ডাক্তার’ আসবেন জানিয়ে তাদের প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করানো হয়। পরে আবুল হোসেন এসে শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে তার চোখে তিনটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মোসলেমের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, এ অবস্থায় আবুল হোসেন শিশুটিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তারা তাকে সঙ্গে নিয়েই ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ১৩ বছরের একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। সে কী কারণে মারা গেছে জানা নেই।’

পুলিশ হেফাজতে থাকা আবুল হোসেন নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট। তার দাবি, মোসলেমের চোখের ওপর ও নিচের পাতা অনেকটাই ফুলে ছিল। চোখের ভেতরের কর্নিয়া পরীক্ষা করার জন্য আপার লিড ও লোয়ার লিডে ‘জেসোকেইন’ ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা চোখ অবশ করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

আবুল হোসেন বলেন, ‘তবে এটা দেওয়ার আগে শিশুটি বমি করে। এর পরই শিশুটির খিঁচুনি আসে। খিঁচুনি এলে আমরা তাকে সদরের দিকে নিয়ে আসি।’

তবে অপটোমেট্রিস্টদের সার্জারি করার অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তার ভাষ্য, অপটোমেট্রিস্টরা চোখ পরীক্ষা এবং সাধারণ চশমার প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন, কিন্তু অস্ত্রোপচার করতে পারেন না।

ঘটনার পর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান সিভিল সার্জন। নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সদর উপজেলার সদ্যবিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাইমা নুসরাত জাবীন জানান, ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ৮ জুন অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয় এবং অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গঠনে এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রীয় নেত

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গঠনে এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রীয় নেত