ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গঠনে এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং | Photo Card
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গঠনে এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ ছবির ক্যাপশন: প্রতীকী ছবি
ad728

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গঠনে এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রনেতারপদত্যাগ

নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে পড়েছে। দলটির ভেতরে অস্থিরতার সূচনা হয় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতা ঘোষণার পর। পদত্যাগ শুরু হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিচিত মুখরা একের পর এক দল ছাড়ছেন। বর্তমানে পদত্যাগের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেন্দ্রীয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই দল থেকে সরে গেছেন।

এদিকে দলের প্রধান নাহিদ ইসলামের হলফনামায় দেখানো আয় নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ ও ভাঙন এনসিপির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। তারা প্রশ্ন তুলছেন, দলের মধ্যে থাকা নেতারা কেন পদত্যাগকারীদের ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যে অনেকে বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ঘোষণার পর থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা এবং জেলা-শহরের নেতারা পদত্যাগ করছেন। অনেক শীর্ষ নেতা এমন সিদ্ধান্তকে আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে ‘আত্মঘাতী’ বলে দেখছেন। অপরদিকে দলের অনেক শীর্ষ নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে সব ধরনের পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখপাত্র ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন। তিনি পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই দিন পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন।

শুক্রবার বিভিন্ন এনসিপি নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পদত্যাগের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করা শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, “যে দল জুলাই অভ্যুত্থান ও ছাত্র-জনতার শহীদ রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত, সেই দল এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে।”

১ জানুয়ারি রাতেই এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দলের পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধান ছিলেন। খালেদ ইসলামের স্ত্রী ডা. তাসনিম জারা ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীও ছিলেন তিনি। পদত্যাগের পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

মুশফিক উস সালেহীন যুগান্তরকে বলেন, “ভেতরে মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে এবং তা প্রকাশ্যে বিভক্তির রূপ নিচ্ছে। মূলত জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতা ঘোষণার পর থেকেই অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এনসিপি যে উদ্দেশ্য-আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই জায়গায় দলটি এখন নেই।”

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, “শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত দলটির ওপর আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ভেতরে যে অস্থিরতা দানা বাঁধছে, তা আমাদের আশাহত করছে। পরিচিত মুখগুলো দল থেকে পদত্যাগ করছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ পরিবারের এক সদস্য বলেন, “এনসিপিতে এমন ভাঙন-পদত্যাগ আমাদের চাওয়া-পাওয়াকে অনিশ্চিত করে তুলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দল হিসাবে পরিচিত এনসিপি থেকেও আমরা সহযোগিতার আশ্বাস পাচ্ছি না। দলটির জৌলুস দিন দিন কমছে।”


এনসিপির একাধিক নেতার অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির ‘বিশেষ’ দুই ব্যক্তির কথাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। তারা কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতাদের উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে অনেক নেতা তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। শুক্রবার দলের এক শীর্ষ নেত্রী যুগান্তরকে বলেন, “পদত্যাগ না করলেও ইতোমধ্যে দলের সব কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি। দলের কিছু শীর্ষ নেতা বলেছেন, আমি যেন অন্তত পদত্যাগ না করি। আমি পদত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই একযোগে পদত্যাগ করবেন।”

এনসিপি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। অনেকে পদত্যাগ না করলেও দল থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে ঘোষিত বা সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর পদত্যাগের খবর আসছে। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল।

ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২৮ ডিসেম্বর বলেছিলেন, “কেউ দলে থাকবে কিনা বা নির্বাচন করবে কিনা, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” নাহিদ ইসলামের এমন বক্তব্যের পর আরও প্রায় ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সদস্য নিয়মিতভাবে সেনা ও প্রাক্তন সেনাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করছেন, যা সংশোধিত হয়নি।

অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, “নতুন গঠিত এনসিপিতে শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় ধরনের ক্ষতি। তবে জোট শুধু নির্বাচনি বিষয়, আদর্শিক নয়। পদত্যাগকারীরা এটি বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। নারী নেতৃত্বের একাংশ জোট ইস্যুতে দলের বাইরে চলে গেছেন, যা দলের ভাঙন বাড়াবে।”
খবর- গণকন্ঠ

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
হঠাৎ চলে গেলেন জবি’র সাবেক শিক্ষার্থী ওয়ালিদ সরকার : বন্ধুম

হঠাৎ চলে গেলেন জবি’র সাবেক শিক্ষার্থী ওয়ালিদ সরকার : বন্ধুম