বেশ আলোড়ন তুলেই কোচিং দুনিয়ায় আবির্ভাব জাবি আলোনসোর, তবে মাত্র সাত মাসের মাথায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব থেকে ছাঁটাই হয়ে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখলেন তিনি।
বুঝলেন, কোচের চাকরি মানে কাঁটার মুকুট পরে ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিয়োগান্ত এক গল্পও, যেখানে শেষটা বেশির ভাগ সময় হতাশা মোড়ানোই হয়।
প্রশ্ন হলো, বায়ার লেভারকুসেনের মতো দলকে ইতিহাস গড়ে যিনি শিরোপা জিতিয়েছিলেন, তিনি রিয়ালে এসে কোথায় ভুল করলেন? যেখানে পরিবেশটা ছিল তার কাছে হাতে তালুর মতো চেনা। নাকি খুব দ্রুতই তাকে ছাঁটাই করে অন্যায় করেছে রিয়াল?
খেলোয়াড় হিসেবে আক্ষেপ বলে কোনো শব্দ নেই আলোনসোর প্রোফাইলে। বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সম্ভাব্য যা যা জিততে পারতেন সবই জিতেছেন তিনি। অবসর নিয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে। এরপর নেমেছেন কোচিংয়ে। রিয়াল সোসিয়েদাদের বি দল দিয়ে শুরু করে ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন লেভারকুসেনের।
পরের গল্পটা রীতিমতো রূপকথা! আলোনসোর লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেওয়ার সময়টাও একেবারে পক্ষে ছিল না। সে সময় জেরার্দো সিওয়ানের অধীন ৮ ম্যাচের মাত্র ১টি জিতে অবনমনের শঙ্কায় কাঁপছিল বুন্দেসলিগার ক্লাবটি।
এরপরও চ্যালেঞ্জটা নেন আলোনসো। অবনমন অঞ্চল থেকে লেভারকুসেনকে টেনে তোলেন লিগ টেবিলে ৬ নম্বরে। শুরুতে অনেকে এ অর্জনকে আকস্মিক চমক হিসেবে দেখলেও পরের মৌসুমে যা ঘটেছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
কখনো ট্রফি না জেতা লেভারকুসেন অপরাজিত থেকে বুন্দেসলিগার শিরোপাসহ ঘরোয়া ট্রেবল জেতে। ইউরোপা লিগে হার মানতে হয় ফাইনালে। সব মিলিয়ে বিস্ময়কর এক মৌসুম পার করেছিল আলোনসোর লেভারকুসেন। পরের মৌসুমে অবশ্য আর কোনো সাফল্য আসেনি। আর মৌসুম শেষে আলোনসো প্রত্যাশিতভাবে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে বিদায়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, আলোনসোর অধীন রিয়ালের পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ ছিল না। ৩৪ ম্যাচে, ২৪ জয়, ৬ হার ও ৪ ড্র।।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, বার্সেলোনায় ৩৪ ম্যাচ পর কোচ হান্সি ফ্লিকের পারফরম্যান্সও ছিল একই রকম। ফ্লিক পরবর্তী সময়ে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’সহ চারটি শিরোপা জিতেছেন। রিয়াল কি তবে একটু তাড়াহুড়াই করে বসল?
তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোনসোর বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ রিয়ালে তার ৭ মাসের কোচিং ক্যারিয়ারকে দীর্ঘ হতে দেয়নি। কারণগুলো হল
লুকা মদরিচকে বাদ দেওয়া
রিয়ালে শুরুতেই আলোনসো বিতর্কে আসেন লুকা মদরিচকে বাদ দিয়ে। যেভাবে কিংবদন্তি মদরিচকে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল, তা অনেকের দৃষ্টিতে অন্যায়। এরপরও সবার দৃষ্টি ছিল মাঠের পারফরম্যান্সে।
তারকাদের সেরাটা বের করতে না পারা
আলোনসোর পুরো সময়টাতে রিয়াল স্বরূপে খেলতে পেরেছেন শুধু এমবাপ্পেই। রদ্রিগো কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বাকি তারকাদের প্রায় সবাই ঢাকা ছিলেন নিজেদের ছায়াতেই। এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি আলোনসো। ফলে দলগত ঐক্য ও কৌশলগত দর্শন সেভাবে ফুটেও ওঠেনি। বিশেষত ‘জাবিবল’ নামের যে কোচিং–দর্শনকে আলোনসো পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, রিয়ালে তা শুধু খাতা–কলমেই রয়ে যায়। গত সাত মাসে রিয়ালের আলোনসোর কৌশল বেশ রহস্যময় এক ঘটনা হয়েই থাকবে।
মাঠের এলোমেলো কৌশল ও পরিকল্পনার বাইরে রিয়ালের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোনসোর বোঝাপড়ার ঘাটতিও ছিল দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
খবর- সময়ের আলো
নিউজ বাংলা চ্যানেল