নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করব।’ কিডনি রোগীদের দ্রুত ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি তার বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেল সভাটির আয়োজন করে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী বা রেকর্ড অব নোটস পাঠানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। সেদিনের এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। কিন্তু ডায়ালাইসিস সেবা প্রধানত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ফলে দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
নথিতে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা চালুর জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থী থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের ঘাটতি কমাতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল