মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-আহরাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান আমদানি করে সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন এবং পরে তা বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে সাড়ে ৭০০ কেজি (১,৬৫৩ পাউন্ড) মারাত্মক মাদকদ্রব্য, মাদক তৈরির কাঁচামাল, বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের তথ্য আদালতে উঠে আসে।
মামলার শুনানিতে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের মধ্যকার অডিও রেকর্ড এবং ভিডিও ক্লিপও আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সারা খলিফাসহ ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
মিসরের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় গুরু ‘গ্র্যান্ড মুফতি’র কাছে ধর্মীয় মতামত চাওয়া বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়ায় মুফতির অনুমোদন পাওয়ার পর আদালত মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত করেন।
‘মিশন ইম্পসিবল’ নামের জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে পরিচিতি পাওয়া সারা খলিফা অবশ্য শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কার্যালয়ে নিয়ে ছবি তোলার আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সারা খলিফার আইনজীবী। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে মিসরে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল