ঢাকা | খ্রি.

রাজবাড়ীতে বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের উৎপাদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং | Photo Card
রাজবাড়ীতে বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের উৎপাদন ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : রাজবাড়ীর নদ-নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে একসময় প্রচুর পাওয়া যেত নানা প্রজাতির দেশি মাছ। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের বিরূপ প্রভাব, জলাশয় ভরাট ও প্রজননক্ষেত্র কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে চাষিদের মধ্যে দেশি মাছ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বদ্ধ পুকুরেও এখন কই, শিং, মাগুর, টেংরা ও পাবদাসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারেও এসব মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ীতে নদী, বিল, প্লাবনভূমি, পুকুর, হাওর-বাঁওড়সহ মাছের প্রজনন ও উৎপাদন ক্ষেত্রের মোট আয়তন ৪৪ হাজার ৮৮১ হেক্টর। ২০২৪-২০২৫ সালের হিসাবে জেলায় বছরে মাছ উৎপাদন হয় ৩৩ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন। বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা ২২ হাজার ২৩৯.৮৬ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১১০১২ মেট্রিক টন বেশি মাছ উৎপাদিত হওয়ায় উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন স্থানীয় চাষিরা।

হারিয়ে যেতে বসা দেশি মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরায় উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলায় ছয়টি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি, কালুখালীতে দুটি, পাংশায় একটি এবং বালিয়াকান্দিতে দুটি অভয়াশ্রম রয়েছে।

মৎস্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চাষিদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও এলাকায় দেশি কই, শিং, মাগুর, টেংরা ও পাবদার মতো মাছের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে বর্তমানে উন্নত চাষপদ্ধতি অনুসরণ করায় এসব মাছের উৎপাদন বাড়ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার কারণে নির্দিষ্ট এলাকায় সরকারিভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এতে মা মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা অভয়াশ্রম গড়ে ওঠার আগে সম্ভব ছিল না। এর ফলে দেশি মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও এর সুফল পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দেশি কই, শিং, মাগুর, বাইন, গুতুম, চান্দা, টেংরা, পাবদা, ঢেলা ও মলা জাতীয় মাছের চাষ ও উৎপাদন বাড়ায় বাজারে এসব মাছের সরবরাহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তানভিরুল ইসলাম বলেন, দেশি মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপন, পোনা অবমুক্তকরণ, চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং উদ্বুদ্ধকরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশি মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা অনেক প্রজাতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তার মতে, দেশি মাছের উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ আমিষের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মাংসের ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল হক বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষার পাশাপাশি পুকুর ও অন্যান্য বদ্ধ জলাশয়ে দেশি মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং মৎস্যচাষিদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ডকুফিল্ম

সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ডকুফিল্ম