নিউজ বাংলা ডেস্ক : টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলা ও পৌর এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে পারছে না। ফলে নিচু এলাকাগুলোতে দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যেতে অনেক বাসিন্দাকেই পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
বেতাগী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তা সংস্কারের সময় পরিকল্পিতভাবে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তার অভিযোগ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের ভুলের কারণে জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকছে। এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি স্থানীয় রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে।
বেতাগী পৌরসভার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু কিছু অংশও পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার দেশান্তরকাঠী, খোন্তাকাঠা, লক্ষ্মীপুরা, বাসন্ডা, গোয়ালবাড়ি, জলিসা, আনোর জলিসা, ঝিঙ্গাবাড়িয়া, ছোট মোকামিয়া, বদনীখালী, কুমড়াখালী, কাজিরাবাদ ও ভোড়া কালিকাবাড়ি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে রয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, ব্যবসায়ীদের দোকানে যাওয়া-আসা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দি অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বেতাগী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশাচালক আলাম বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকলে তাদের রান্না বন্ধ রাখতে হয়।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে পানিবন্দি এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল