নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এসআরও নম্বর দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বুধবার রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, সেখানে কাজ শেষ হওয়ার পর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে এবং পরে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সবশেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গেজেট প্রকাশে কোনো বিলম্ব করতে চাই না। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় লাগছে, সেটুকুই। আশা করছি, চলতি সপ্তাহেই হয়ে যাবে।’
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়ায় সেই সময়সীমা পার হয়। পরে ৬ সেপ্টেম্বরকে নতুন সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অর্থসচিবও জানিয়েছিলেন, ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বর্তমানে তাই বিজি প্রেসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।
এদিকে গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ তৈরির জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল