ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সফরের বিষয়টি জানায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
নেতানিয়াহুর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান, সামরিক সচিব এবং পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চলার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের বর্তমান সরকার নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান সরকার একসময় ক্ষমতা হারাবে। তার দাবি, দেশটির নেতৃত্বের মিথ্যা, দুর্নীতি ও কঠোর নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটবে।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ইরানের জনগণই তাদের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তার দাবি, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণেই একদিন তারা ক্ষমতাচ্যুত হবে। ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে বেশি সময় লাগবে না এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তি ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই হামলা প্রয়োজনীয় ছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে কয়েকটি দেশ ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, প্রকাশ্যে এসব দেশের কিছু নেতা ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। ভবনের বাইরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন তিনি। নেতানিয়াহু প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সরকার যখন নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা ও আহত করেছিল, তখন এসব সমালোচনাকারী কোথায় ছিলেন। বিক্ষোভকারীদের ‘ভুয়া মানবাধিকারকর্মী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদল তাদের আসনেই অবস্থান করেছিল।
নিউজ বাংলা চ্যানেল