বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মতো অস্ত্রের ঘাটতি-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কীভাবে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছেছে, তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের পরিধি ও কর্মকর্তাদের অবস্থান বিবেচনায় আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযান সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জয়েন্ট স্টাফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের তদন্তের লক্ষ্য শুধু তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা নয়; ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর বার্তা দেওয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেনাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব তথ্য সুরক্ষিত রাখা জরুরি বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, সামরিক অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ পরীক্ষার ঘটনা পেন্টাগনের ভেতরে চলমান বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের চিত্রও সামনে এনেছে। এসব পরিস্থিতির জন্য প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিতর্কিত প্রশাসনিক ধরনকে দায়ী করা হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর হেগসেথ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন অথবা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেছেন। পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পেন্টাগন-অর্থায়িত প্রকাশনা ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর শীর্ষ সম্পাদককেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
হেগসেথের বিরুদ্ধে সিগন্যাল অ্যাপে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারের অভিযোগ থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কর্মকাণ্ডকে ‘চমৎকার’ বলে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে চাপ ও অস্থিরতা আরও বাড়ছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল