নিজস্ব প্রতিবেদক
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ পানির স্রোতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও দুর্গম এলাকাগুলোতে জোরালোভাবে চলছে উদ্ধার অভিযান। এখন পর্যন্ত নেপালে ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশটিতে অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ১৮ হাজার ৭০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে বিপুল পরিমাণ পানির স্রোত নেমে এসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। আকস্মিক ওই পানির তোড়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
এদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৬৭ জন, চীনের ৪০ জন, ইউক্রেনের ৮ জন, জার্মানির ৪ জন, মাল্টার ৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন, ইতালির ২ জন, রাশিয়ার ২ জন, স্পেনের ২ জন, সুইজারল্যান্ডের ২ জন এবং তুরস্কের ২ জন রয়েছেন। এছাড়া বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ওমান ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিক উদ্ধার হয়েছেন। আরও ২১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের পর সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ, প্রবল পানির স্রোত ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। তারপরও নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলো।
নিউজ বাংলা চ্যানেল