ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের ছায়ায় মৃত্যু: মেট্রোরেল দুর্ঘটনার দায় কার?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2025 ইং | Photo Card
উন্নয়নের ছায়ায় মৃত্যু: মেট্রোরেল দুর্ঘটনার দায় কার? ছবির ক্যাপশন: ছবি : মো: মামুনার রশিদ, প্রবাসী সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
ad728
সম্প্রতি রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে লোহার বিয়ারিং পড়ে এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শহরের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে যেই মেট্রোরেলকে আমরা গর্বের চোখে দেখি, সেই একই অবকাঠামো আজ প্রাণনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই মৃত্যুর দায় কার? এটি কি কেবলই একটি “দুর্ঘটনা”, নাকি অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাব ও দায়িত্বহীনতার করুণ প্রতিফলন?
উন্নয়ন মানেই নিরাপত্তাহীনতা নয়
ঢাকার উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান—উচ্চতর ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করছে। কিছুদিন আগেও ক্রেনের নিচে গিয়ে একইভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক পরিবার। তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা মানে শুধু হেলমেট পরা বা বাঁশের ব্যারিকেড নয়, বরং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
দায়বদ্ধতার অভাবে বাড়ছে ঝুঁকি
এমন দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রায় এক—“দুর্ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল”, “তদন্ত চলছে”। কিন্তু তদন্তের ফলাফল কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা খুব কমই দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তদারকি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক—সবাই এই ব্যবস্থার অংশ। যদি কোনো অংশে গাফিলতি থাকে, তবে সেই অবহেলার দায় যৌথভাবেই বহন করতে হবে।
আইন আছে, প্রয়োগ নেই
বাংলাদেশে সরকারি নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধান সম্পর্কিত সুস্পষ্ট আইন ও নির্দেশনা রয়েছে। শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “নির্মাণ সাইট সেফটি গাইডলাইন” কার্যকর থাকা সত্ত্বেও তা মেনে চলা হয় না। এর ফলে প্রতিটি প্রকল্প যেন ‘সম্ভাব্য বিপদের এলাকা’ হিসেবে থেকে যায়।
যদি প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হতো, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি হতো—তাহলে এমন মৃত্যু এড়ানো যেত।
দায় এড়ানো নয়, দায় স্বীকারই সমাধান
এই দুর্ঘটনার দায় কেবল ভাগ্যের ওপর চাপিয়ে দিলে সমাজে জবাবদিহি নামের সংস্কৃতি কখনোই গড়ে উঠবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা, নির্মাণ সংস্থার স্বচ্ছতা এবং সরকারের কঠোর মনোভাব—এই তিনটির সমন্বয়ই পারে ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা ঠেকাতে।
যে প্রাণ হারিয়েছে, সে রাষ্ট্রের নাগরিক—তার জীবনের মূল্য রাষ্ট্রের উন্নয়নের চেয়ে কম নয়।
পরিশেষে
উন্নয়ন যদি মৃত্যুর পথ তৈরি করে, তবে সেটি প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং অব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। এখনই সময়, আমরা যেন প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পে মানবজীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। কারণ উন্নয়নের চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকলে তা হলো—মানবজীবন।

লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স