অবশেষে কিছুটা শীতল হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির সম্পর্ক। বিরোধ কাটিয়ে একসঙ্গে বৈঠক করেছেন দুই মার্কিন নেতা। গত ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে মামদানির ঘোরবিরোধী ছিলেন ট্রাম্প। একে অন্যকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তবে গতকাল শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল একেবারেই ভিন্ন। এদিন মামদানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টার পর হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারা। আধঘণ্টা বৈঠকের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প ও মামদানি।হোয়াইট হাউসের বৈঠকে একপর্যায়ে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের টেবিলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে ট্রাম্প তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং হাত চাপড়ে দেন। কিছুদিন আগেও এই ট্রাম্পই তাকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বিদ্রূপ করেছিলেন।ব্যক্তিগত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক জায়গায় আমরা একমত, আমরা চাই আমাদের এই প্রিয় শহরটি খুব ভালো থাকুক।’
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প এর আগে ওভাল অফিসে কয়েকজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিলেন। তাই মামদানিকেও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু গতকালের বৈঠকে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বৈঠকের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তার সঙ্গে মামদানির আলোচনা হবে ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’সেটিই সত্যি হয়েছে। বৈঠক শেষে দুইজন কোনো নীতি–ঘোষণা দেননি। তবে, তাদের কথাবার্তায় রাজনীতিকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ পথে নেওয়ার ইঙ্গিত মেলে। সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে আছে। কিন্তু আমাদের বৈঠকে সে সব বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বরং নিউইয়র্কবাসীর সেবা করার যে সাধারণ লক্ষ্য আমাদের আছে, তাকে কেন্দ্র করেই মূলত আলোচনা করেছি। (এমন একটি বৈঠকের জন্য) আমি প্রেসিডেন্টের সত্যিই খুব প্রশংসা করি।’দলীয় বিভাজন সরিয়ে রাখতে পেরে সন্তুষ্ট ট্রাম্পও বলেন, ‘তিনি (মামদানি) যত ভালো কাজ করবেন, আমি ততই খুশি হব।’
খবর- সময়ের আলো
নিউজ বাংলা চ্যানেল