ঢাকা | খ্রি.

সর্বজনীন পেনশনে ৬ নতুন সুবিধার প্রস্তাব, ৫৫ বছরেই পেনশন পাওয়ার সুযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 17, 2026 ইং | Photo Card
সর্বজনীন পেনশনে ৬ নতুন সুবিধার প্রস্তাব, ৫৫ বছরেই পেনশন পাওয়ার সুযোগ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নতুন ছয়টি সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর বিশেষ পরিস্থিতিতে জমা অর্থ তোলার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন এবং ৬০ বছরের বদলে ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবীমা চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দিলে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট কর্মসূচি চালুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সমতা স্কিমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাঁদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাস স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ১ হাজার ১৭১ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে চারটি স্কিম মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জন দেখানো হয়েছে।

যে ৬ সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাব

প্রস্তাবিত প্রথম সুবিধা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কোনো স্কিমে যুক্ত হওয়ার পর তা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনভোগী ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য, অর্থাৎ ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পান।

তৃতীয় প্রস্তাবটি পেনশন পাওয়ার বয়স নিয়ে। এতে ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ৬০ বছর বয়সে জমা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

চতুর্থত, সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় আগ্রহী নন এমন গ্রাহকদের জন্য ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম প্রস্তাবে গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার কথা রয়েছে।

ষষ্ঠ সুবিধা হিসেবে গ্রাহক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবগুলো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সে অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম চালু করব।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে যা জানাল আইএসপিআর

গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে যা জানাল আইএসপিআর