ঢাকা | খ্রি.

পদ্মায় পথ হারিয়ে ভারতে, পাঁচ বাংলাদেশিকে ফেরাতে পরিবারের অপেক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং | Photo Card
পদ্মায় পথ হারিয়ে ভারতে, পাঁচ বাংলাদেশিকে ফেরাতে পরিবারের অপেক্ষা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

পদ্মা নদীতে পথ হারিয়ে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ার পর পাটবোঝাই নৌকাসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে বিএসএফ আটক করেছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও আটক ব্যক্তিরা কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি স্বজনেরা। ফলে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পাঁচ পরিবারের।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাংলাবাজার চর এলাকা থেকে পাট কিনে নৌকায় আলাইপুরের দিকে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২৬), ইউনুছ আলীর ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং জামাল মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাবাজার চর থেকে পাট কিনে ফেরার পথে নদীর স্রোত ও অন্ধকারের কারণে নৌকার মাঝিরা পথ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে নৌকাটি ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে চলে গেলে বিএসএফ সদস্যরা নৌকাসহ পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে যান বলে তাদের দাবি।

ঘটনার পর স্বজনেরা আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।

আশাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করায় পাটবোঝাই নৌকাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে বা শারীরিক অবস্থা কেমন—এ বিষয়ে পরিবারকে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মুনছুর আলী বলেন, “এ বিষয়ে ৯ সেপ্টেম্বর বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে। নৌকাটি ভুল করে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে চলে গিয়েছিল।”

বিজিবির মিডিয়া সেলের সিপাহী সাকিব জানান, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আটক কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেনের বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, “অভাবের সংসারে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছেলে পাটের ব্যবসা করত। সে কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।”

আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী বলেন, “বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর মতো আর কেউ নেই। দ্রুত বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী কোথায়, কী অবস্থায় আছে—এটুকু জানতে পারলেও কিছুটা শান্তি পেতাম। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্থানীয়রা জানান, আটক পাঁচজনই পাট ব্যবসা ও নৌকা চালানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক বা চোরাচালানের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তারা। ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, “তারা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তের ওপারে চলে গেছে। দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা উচিত।”

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পাঁচ পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এবং দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান