দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগর, অর্থাৎ জাপান সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বা ১৫৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে।
উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। পরে দ্রুত এসব তথ্য জাপানের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় তিন দেশের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ নৌ-মহড়াকে উত্তর কোরিয়া অঞ্চলটির জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেও পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থামেনি। এর আগে গত ২০ আগস্টও সমুদ্রের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল উত্তর কোরিয়া।
ওয়াশিংটন ও সিউলের বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার জন্য অনুপযুক্ত ও বৈরী বলে উল্লেখ করে এটি সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তে এ অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সিউলের গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, এর ফলে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কিমের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বর্তমানে ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া নিয়ে আপত্তির বিষয়টি নতুন নয়। যৌথ মহড়ার পরিমাণ কমানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সিউলের জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।
এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং দাবি করেন, সিউলের ভুল নিরাপত্তা নীতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ককে ‘প্রভু ও ভৃত্য’-এর সম্পর্ক বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল