ঢাকা | খ্রি.

সুড়ঙ্গে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার নেপালের দুই জলবিদ্যুৎকর্মী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 5, 2026 ইং | Photo Card
সুড়ঙ্গে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার নেপালের দুই জলবিদ্যুৎকর্মী ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : নেপালের ত্রিশূলি (থ্রি-এ) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই কর্মী। ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্লাবিত হলে তারা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের যৌথ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পেয়ে উদ্ধার করে কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ (৩০) এবং মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল ঢল নেমে আসে। প্রবল স্রোতে ত্রিশূলি (থ্রি-এ) প্রকল্পের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সে সময় ভূগর্ভস্থ কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় শাহ।

পানি দ্রুত কন্ট্রোলরুমে ঢুকতে শুরু করলে সেখানে থাকা ৪০ থেকে ৪৫ জন কর্মীকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন সঞ্জয়। অন্যদের নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজের বের হওয়ার সুযোগ হারান তিনি। শেষ পর্যন্ত সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকা পড়েন।

উদ্ধারের পর সেনা চিকিৎসকদের সঞ্জয় বলেন, ‘সবাইকে বাঁচানো আমার দায়িত্ব ছিল। সুড়ঙ্গের অন্ধকারে ৯টি দিন শুধু ঈশ্বরকে ডেকে কাটিয়েছি।’

দুর্ঘটনার আগে ২৬ আগস্ট সকালে সঞ্জয় তার বোন সুধার সঙ্গে এবং কবির তার স্ত্রী হীরা শোভার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। এরপরই দুজনের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবিত থাকার আশা ক্রমেই কমে আসছিল।

বন্যা ও কাদামাটির কারণে ভূগর্ভস্থ পথের প্রবেশমুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নেপালি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত ছিলেন। টানা নয় দিনের প্রচেষ্টার পর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের গভীরে দুজনের সন্ধান পান বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে তাদের কাঠমাণ্ডুর বীরেন্দ্র সৈনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সঞ্জয়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও কবির মহার্জনের পায়ে আঘাত রয়েছে এবং তার অবস্থা কিছুটা গুরুতর।

নয় দিন পর স্বামীকে জীবিত দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কবিরের স্ত্রী হীরা শোভা। তিনি জানান, কবির তাকে চিনতে পেরেছেন। তবে প্রচণ্ড দুর্বলতার কারণে তিনি শুধু বলেছেন, ‘বড্ড তৃষ্ণা পেয়েছে।’

সঞ্জয় শাহের ধারণা, সুড়ঙ্গের আরও গভীরে এখনো অন্য কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তার এই আশঙ্কার মধ্যেই সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে নেপালি সেনাবাহিনী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা