ঢাকা | খ্রি.

১৫ বছর পর অ্যাপলের সিইও পদে পরিবর্তন, দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 ইং | Photo Card
১৫ বছর পর অ্যাপলের সিইও পদে পরিবর্তন, দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সোমবার পদ ছাড়লেন টিম কুক। একই দিনে উত্তরসূরি জন টার্নাসের কাছে নেতৃত্বের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। বিদায়ের সময় অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে স্মরণ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন কুক।

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপলের সঙ্গে থাকছেন টিম কুক। এখন থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিইও হিসেবে কাজ শুরু করবেন জন টার্নাস।

১৯৯৮ সালে স্টিভ জবসের হাত ধরে অ্যাপলে যোগ দিয়েছিলেন কুক। শুরুতে তিনি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০০৫ সালে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হন। এ পদে থাকাকালে অ্যাপলের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন হয়ে ওঠেন কুক।

২০১১ সালে অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন স্টিভ জবস। কুকের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহ পরই অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান জবস। এরপর তার রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ধরে রাখার বড় দায়িত্ব কুকের ওপর এসে পড়ে।

কুকের নেতৃত্বে পরবর্তী প্রায় ১৫ বছরে অ্যাপলের ব্যবসা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। সোমবার অ্যাপলের বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

কর্মজীবনের শেষ দিনে অ্যাপলের কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় স্টিভ জবসের কথাও স্মরণ করেন কুক। সেখানে তিনি লেখেন, ‘স্টিভ যেভাবে একবার বলেছিলেন, আমরা মহাবিশ্বে আমাদের ছাপ রেখে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’

বিদায়ী বার্তায় অ্যাপলের সাফল্যের জন্য কর্মীদের কৃতিত্ব দেন কুক। নিজের অর্জন নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, এসব সাফল্য কর্মীদের কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এত অসাধারণ মানুষের সঙ্গে এর আগে কখনো কাজ করেননি বলেও জানান কুক।

অ্যাপলের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মী রয়েছেন। তাদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী বার্তায় কুক আরও বলেন, তিনি অ্যাপল ও এর কর্মীদের ভালোবাসেন। তাদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে দেখেন।

এদিকে টিম কুকের পর অ্যাপলের সিইও হচ্ছেন জন টার্নাস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন। স্টিভ জবসের পর টার্নাস হবেন অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া দ্বিতীয় সিইও।

২০০১ সালে অ্যাপলের নকশা দলে যোগ দেন টার্নাস। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর তিনি হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আইফোন, আইপ্যাডসহ অ্যাপলের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার।

সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই টার্নাসের সামনে বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ভাঁজ করা ফোন উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন পদে যোগ দেওয়ার পরপরই বড় একটি পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে।

অ্যাপলের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। উন্নত কম্পিউটিং চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় চিপ সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতাও ক্রমেই বাড়ছে। গুগল, মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ফলে এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
১০-১২ হাজার টাকায় রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে পাচার হচ্ছে কুকুর

১০-১২ হাজার টাকায় রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে পাচার হচ্ছে কুকুর