বিধানসভায় নিজেই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি বলেন, তামিলনাড়ুর যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্য সংগীত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। প্রস্তাবটিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকেও সমর্থন দিয়েছে।
স্পিকার জেসিডি প্রভাকর প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানান, এটি কার্যকর করতে আর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।
প্রস্তাব পাসের পর দেওয়া বক্তব্যে বিজয় বলেন, ‘তামিল কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের জীবনরেখা এবং আবেগ।’ মাতৃভাষাকে মাতৃত্বের মতো পবিত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তামিল মানে গৌরব, তামিল মানে শক্তি। আপনি যখনই ‘তামিল’ বলবেন, সমগ্র তামিলনাড়ু একত্রিত হবে এবং এক হয়ে দাঁড়াবে। তামিলনাড়ুতে ‘তামিল থাই ভাজতু’-কে অবশ্যই সবার আগে স্থান পেতে হবে। তামিল থাই ভাজতুকে প্রথম স্থান দেওয়া আমাদের অধিকার।’
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের যেকোনো অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাধ্যতামূলকভাবে ‘তামিল থাই ভাজতু’ গাইতে বা বাজাতে হবে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ এবং এরপর জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুলাইয়ে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় রাজ্যগুলোকে সেই নির্দেশ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।
৯ জুলাইয়ের ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় গান বা জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি রাজ্যের গান গাওয়া বা বাজানো হলে জাতীয় গান আগে এবং এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করতে হবে। সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাস হওয়া প্রস্তাবের মাধ্যমে কেন্দ্রের ওই নির্দেশনার বিরোধিতা করা হলো।
রাজ্য সংগীতের অগ্রাধিকার নিয়ে বিতর্কটি বিজয়ের সরকারের শুরু থেকেই চলে আসছে। গত ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে সি জোসেফ বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীতের পর তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত বাজানো হয়েছিল। এ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিজয়ের জোটসঙ্গীরাও তার সরকারের সমালোচনা করেছিল।
তবে নতুন ক্ষমতায় আসা টিভিকে জানিয়েছিল, রাজ্য সংগীত তৃতীয় স্থানে বাজানোর সিদ্ধান্ত সরকারের ছিল না; শপথ অনুষ্ঠানের প্রটোকল রাজ্যপালের কার্যালয় থেকে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তামিলনাড়ুতে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘তামিল থাই ভাজতু’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯৭০ সালে। এরপর থেকে সরকারি কর্মসূচির শুরুতে গানটি পরিবেশনের একটি রীতি তৈরি হয়। পরে ২০২১ সালে গানটিকে রাজ্য সংগীত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর রাজ্যপালের কার্যালয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ওই রীতি অনুসরণ না করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সোমবার বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সেই বিতর্কের আপাতত অবসান হলো।
নিউজ বাংলা চ্যানেল