ঢাকা | খ্রি.

চা বিক্রিতে এনটিসির ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম, বাড়ল উৎপাদন ও আয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং | Photo Card
চা বিক্রিতে এনটিসির ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম, বাড়ল উৎপাদন ও আয় ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : দেশের চা শিল্পে নতুন রেকর্ড গড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে চলতি মৌসুমে উৎপাদনও বাড়ায় আয় ও উৎপাদন—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্য পেয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির ১২টি বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। এসব চায়ের গড় দর ছিল প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা। এনটিসির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ গড় বিক্রয়মূল্য। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকা ভিত্তিমূল্যের তুলনায় বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় ওই নিলাম থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।

নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ও তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া ও পারকুল এবং মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নতমানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়।

তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানান, চায়ের মান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। এতে কাঁচা পাতার গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে। গুণগত মানের এই উন্নতিই নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এনটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সার্বিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে দেশের চা শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনটিসির উৎপাদন ও বিক্রয়ে এই অগ্রগতি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পুরো চা খাতের জন্যও আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। উৎপাদন বাড়ানো ও চায়ের মান উন্নয়নে নেওয়া বিশেষ কর্মসূচির সুফল এখন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জিয়াউল হাসান বলেন, দেশের চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নে এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে ৬১২ কোটি টাকা অনুদা

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে ৬১২ কোটি টাকা অনুদা