ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংকটে আস্থা সশস্ত্র বাহিনীতেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 20, 2025 ইং | Photo Card
সংকটে আস্থা সশস্ত্র বাহিনীতেই ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত
ad728

সংকটে আস্থা সশস্ত্র বাহিনীতেই

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠানের কথাও রয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মিরপুর সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। এই নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মতোই নির্বাচনী অপরাধের জন্য যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময়ও সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে ফৌজদারি বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে। এ ছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে অপরিহার্য বিবেচনা করা হচ্ছে।দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহায়তাসহ আইন ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় দেড় বছর অক্লান্তভাবে এবং পরম সহিষ্ণুতার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে চলেছেন। এই বাস্তবতায় আগামী ২১ নভেম্বর পালিত হতে যাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এই দিনে পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

গত বছর দিবসটি পালিত হয়েছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো। ওই বছরের ৫ আগস্ট এবং তার পরে সেনাবাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনী এবং সার্বিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকার বিষয়টি সচেতন মহল স্মরণ করে। তাদের মূল্যায়ন ছিল, সেনাবাহিনী প্রধান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানদের এবং তার সহযোগী অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে দেশের ক্রান্তিকালে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে যেভাবে দেশ ও জনসাধারণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়েছিলেন, তাতে সশস্ত্র বাহিনী আবারও দেশের জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেনাপ্রধান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করেছেন দেশ ও জাতিকে।গত বছর ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ ২০২৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও একই মূল্যায়ন করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’এবারও সেনাবাহিনীর প্রতি সেই আস্থা ও ভরসা রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে দেশবাসী; যার ফলে নির্বাচিত সরকার গঠিত হবে এবং দেশে স্থিতিশীলতা আসবে।
খবর- গণকন্ঠ

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স