ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঢাকায় কেন সেঞ্চুরি হাঁকায় গ্রামের ৩০ টাকার সবজি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 28, 2025 ইং | Photo Card
ঢাকায় কেন সেঞ্চুরি হাঁকায় গ্রামের ৩০ টাকার সবজি ছবির ক্যাপশন: প্রতীকী ছবি
ad728
শীতের আমেজ থাকলেও সবজির বাজার যেন আগুন ছুঁই ছুঁই। প্রতি বছর শীত এলেই মানুষ আশা করে দামে স্বস্তি মিলবে, কিন্তু এবার রাজধানীর বাজারে তার উল্টো চিত্র। তিন গুণ পর্যন্ত দাম বেড়েছে মৌসুমি সবজির। প্রশ্ন একটাই, গ্রামের হাটে যেখানে ৩০ টাকায় বেগুন বা ফুলকপি পাওয়া যায়, ঢাকায় এসে তা কেন ১০০ ছাড়ায়? এর মূল কারণ,মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং লম্বা হাতবদলের চেইন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের মুখে স্পষ্ট হতাশা। নতুন শীতের সবজি বাজারে উঠলেও দামে কোনো কমতি নেই। কেউ কিনছেন কম, কেউ আবার সামান্য সবজি কিনেই পুরো টাকার ব্যাগ খালি হয়ে যাচ্ছে।অনেকের অভিযোগ, দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে শীতকালীন সবজি ‘সস্তার মৌসুম’ বলে আর কিছুই নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় উৎপাদন ভালো হয়নি, তাই সরবরাহ কম। তবে আরও ১ মাস পর দাম কমতে পারে। কিন্তু ভোক্তারা এসব আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না।পাড়া-মহল্লায় যেসব ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা ঘোরেন, তাদের কাছে দাম বাজারের চেয়েও ১৫–২০ টাকা বেশি। কারণ? তারা বলেন, পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেটের কাছে আমরা জিম্মি। ফড়িয়ারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়, যা শেষে গিয়ে ভোক্তার কাঁধেই চাপে।

পাড়া-মহল্লায় যেসব ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা ঘোরেন, তাদের কাছে দাম বাজারের চেয়েও ১৫–২০ টাকা বেশি। কারণ? তারা বলেন, পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেটের কাছে আমরা জিম্মি। ফড়িয়ারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়, যা শেষে গিয়ে ভোক্তার কাঁধেই চাপে।এক বস্তা সবজি কৃষকের ক্ষেত থেকে ভোক্তার ঝুড়িতে পৌঁছাতে যে পথ পাড়ি দেয় তা হলো, কৃষক, স্থানীয় ফড়িয়া, আড়ত, পাইকারি বিক্রেতা (ঢাকা), খুচরা ব্যবসায়ী, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা/দোকান, প্রতিটি ধাপেই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা করে দাম বাড়ে। তাই গ্রামের ৩০ টাকা দামের সবজি ঢাকায় এসে সহজেই ১০০ টাকায় পৌঁছে যায়।

মানিকগঞ্জের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, লাভ করে ব্যাপারীরা, আর লোকসান গুনে আমরা কৃষক। দেখার কেউ নেই। শ্রম, ঝুঁকি, ভোরের কুয়াশা ভেদ করে ক্ষেতে কাজ, সবই কৃষকের। কিন্তু বাজারের মুনাফা যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। বছরের পর বছর দাম বাড়ে, খরচ বাড়ে, কিন্তু কৃষকের হিস্যাটা একই থাকে, সংকুচিত।ফড়িয়া ও আড়তদারের সিন্ডিকেট, একাধিক হাতবদল, বৃষ্টির কারণে কম উৎপাদন, শহরে উচ্চ পরিবহন খরচ, ছোট পাইকারদের উপর চাপ, খুচরা বাজারে অতিরিক্ত লাভের হিসাব। বছর যায়, শীত আসে-যায়, কিন্তু সবজি বিক্রির এই চক্র যেন এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কৃষক তার ন্যায্য দাম পান না, ভোক্তা ন্যায্য দামে কিনতে পারে না, কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার হাসি একই থাকে। কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার পকেট, দুই দিক থেকেই ফায়দা লুটছে সিন্ডিকেটই।
খবর- সময়ের আলো

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি সংকটে নড়াইলের কালীপ্রসন্ন : নিম্নমুখী ফল

ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি সংকটে নড়াইলের কালীপ্রসন্ন : নিম্নমুখী ফল