ঢাকা | খ্রি.

ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি সংকটে নড়াইলের কালীপ্রসন্ন : নিম্নমুখী ফলাফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 11, 2025 ইং | Photo Card
ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি সংকটে নড়াইলের কালীপ্রসন্ন : নিম্নমুখী ফলাফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ছবির ক্যাপশন: সিঙ্গাশোলপুর কালীপ্রসন্ন (কেপি) মাধ্যমিক বিদ্যালয়
ad728
সৈয়দ এম এ জিন্নাহ্ :: এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশব্যাপী যখন উচ্ছ্বসিত তখন নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী কালীপ্রসন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী হতাশাগ্রস্থ। দেশের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠ দিন দিন যেন তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। একসময়ের দেশ কাঁপানো এই বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল এখন শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে। শতবর্ষের এই বিদ্যালয় ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ঢাকা বোর্ড তথা সমগ্র বাংলাদেশে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান এবং ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে যশোর শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান সহ একাধিক বার জাতীয় মেধাতালিকায় স্থান করে নিলেও বর্তমান ফলাফলে এলাকাবাসী আশাহত।
জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গাশোলপুর কালীপ্রসন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নড়াইল সদর উপজেলার চিত্রা নদীর তীর ঘেষা সবুজ ছাঁয়া সুনিবিড় এক গ্রামীণ পরিবেশ অবস্থিত। ১৯২১ সালে ১ জানুয়ারি স্থানীয় জমিদার কালী প্রসন্ন রায় নিজ বাড়ির প্রায় ছয় একর জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত যেকোন আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জারী সম্রাট চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন ও বিজয় সরকার এই প্রতিষ্ঠানের গর্বিত ছাত্র ছিলেন। স্কুলের গৌরব দীপ্ত সাফল্যে যারা স্বাক্ষর রেখেছেন তাদের মধ্যে হলেন-সোমনাথ দাশ : ৮ম স্থান, ঢাকা বোর্ড ১৯৫৮ খ্রি.। হেমনাথ দাশ : ১৩তম স্থান, রাজশাহী বোর্ড ১৯৬২ খ্রি.। নির্মল কান্তি দাশ : ২য় স্থান, যশোর বোর্ড ১৯৬৬ খ্রি.। রতন কুমার দত্ত : ৬ষ্ঠ স্থান, যশোর বোর্ড ১৯৬৬ খ্রি.। গৌতম কুমার মিত্র ৬ষ্ঠ স্থান যশোর বোর্ড ১৯৮০ খ্রি.। স্কুল জীবন শেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১৯ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬৪৯ জন এবং বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এই বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ৪৭ জন, যেখানে জিপিএ ফাইভ শূন্য। ২০২৪ সালে ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৮৮ জন, যেখানে জিপিএ-৫ পাঁচজন। এ বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫,  ১৫ হাজার ৪১০ জন হলেও অত্র বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী এই তালিকায় না থাকায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সময়ের ব্যবধানে সুনামধন্য এই বিদ্যালয়ের ফলাফল নিম্নমুখী হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।
স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও পাবনা রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী হাসমত আলী বলেন, “ স্কুলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে টিচার নিয়োগে সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সর্বোচ্চ মানের টিচার নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। 
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক স্কুলের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এস এম হাদিউজ্জামান বলেন, ভালো রেজাল্টের জন্য শুরু থেকেই ছেলেমেয়েদের প্রতি শিক্ষক-অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ছেলেমেয়েরা কখন কোথায় যায়, কী করে সার্বক্ষণিক নজরদারীতে রাখলে রেজাল্ট ভালো হতে বাধ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, এ বিদ্যালয়ে এবার কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। এতে বিদ্যালয়ের সুনামও ক্ষুন্ন হয়ছে। এখানে শিক্ষকরা তো প্রতিদিন আসেন, ঠিকমতো ক্লাস নেন কি না সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিক্ষকদের উদাসীনতায় প্রতিষ্ঠানটির পড়ালেখার মান থমকে গেছে। সদর উপজেলায় বিদ্যালয়টি হলেও শিক্ষা কর্মকর্তাদের কোনো তদারকি নেই।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: খায়রুজ্জামান বলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঠিক তদারকির অভাবে ভালো ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন গ্রুপিং-এর কারণে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রধান শিক্ষক মোড়ল আবুল হোসেন বলেন, করোনা কালীন ব্যাচ হওয়ায় রেজাল্ট কিছুটা  খারাপ হয়েছে, আগামীতে আশানুররূপ হবে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। প্যারেন্টস মিটিং-এ বার বার ফোন করেও অভিভাবকদের পাওয়া যায় না। 
এডহক কমিটির সভাপতি কাজী ওমর ফারুক জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর আমি দায়িত্ব নিয়েছি। ফলাফল পর্যবেক্ষণ নিয়ে শিক্ষক অভিভাবকদের নিয়ে বসবো। আগামীতে কিভাবে ভালো করা যায় সব পদক্ষেপ নিব ইনশাল্লাহ।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, আমি নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছি। কালীপ্রসন্ন বিদ্যালয়ের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। বিদ্যালয়ের নিম্নমুখী ফলাফলে শিক্ষকদের অবহেলা আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তারেক রহমান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তারেক রহমান