ঢাকা | খ্রি.

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৮২, ধ্বংসস্তূপে আটকা আরও অনেকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 17, 2026 ইং | Photo Card
সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৮২, ধ্বংসস্তূপে আটকা আরও অনেকে ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : দক্ষিণ সুদানে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ

খনিটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খুব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত চলছে। দেশটির সোনা বাণিজ্য থেকে এই যুদ্ধের ব্যয়ের বড় একটি অংশ আসে। এই বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য কয়েক শ কোটি ডলার।

সুদানের বড় একটি অংশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। তাদের বড় অংশই পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা খনির মতো অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজ করেন।

মঙ্গলবার আল জারা খনির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। ওই সময় সেখানে ছোট পরিসরে কাজ করা কয়েক ডজন খনি শ্রমিক ছিলেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সারা রাত সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর পর বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোনা উত্তোলনে শ্রমিকেরা যে সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, উদ্ধারকাজেও সেগুলোই কাজে লাগানো হয়েছে।

খাইর আল সাইয়েদ জাবারা বলেন, ‘ভেতরে আরো কতজন আছে, আমরা জানি না। জীবিত বা মৃতদের উদ্ধারের জন্য সবাই খুব কঠোর পরিশ্রম করছে। কিন্তু কাজটি কঠিন। পাথর ও মাটি সরাতে আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি দরকার।’

সুদানের বেশির ভাগ সোনা হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনি থেকে উত্তোলন করা হয়। এসব খনির মধ্যে কিছু পুরোনো ও পরিত্যক্ত, আবার আল জারার মতো অনেক খনি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়। শ্রমিকেরা হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন এবং এর বিনিময়ে খুব কম দৈনিক মজুরি পান।

মাটি থেকে সোনার টুকরা আলাদা করার সময় শ্রমিকদের সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শেও আসতে হয়। এসব রাসায়নিকের কারণে খনির আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ব্যাপক অসুস্থতা দেখা দেয়। এই শোষণমূলক সোনা বাণিজ্যে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জুলাইয়ে সুদানে পারদ ও সায়ানাইডের বিক্রি, হস্তান্তর ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সুদানজুড়ে খনি ধসের ঘটনা নিয়মিত ঘটে। দেশটির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ও বন্ধ খনির সুড়ঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আয় করার আশায় তরুণরা সেখানে গোপনে প্রবেশ করেন।

এ ছাড়া দক্ষিণের সম্পদসমৃদ্ধ বৃহত্তর কর্ডোফান অঞ্চলেও রয়েছে বহু অনিবন্ধিত খনি। এসব খনি মূলত মাটিতে তৈরি বড় ও অনিরাপদ গর্তের মতো। প্রতিদিন সেখানে কয়েক ডজন তরুণ কাজ করেন।

মঙ্গলবার আল জারা খনির কিনারায় কাজ করছিলেন শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখানকার সব সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি ধসে পড়লে তার পাশের সব সুড়ঙ্গও ধসে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানেও সেটাই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮২জনের মরদেহ বের করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে কিছু মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। আমার মনে হয় না তারা জীবিত আছেন।’

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে সুদানের প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার আগেও দেশটির হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনিগুলোতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন।

আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদক। দেশটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত সোনার বড় অংশই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায়।

সুদানের সোনা বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ