নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে বর্তমানে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে জোর দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসে আরও চার কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এর আগে চলতি মাসে ১০ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বুধবার এলএনজিবাহী একটি জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে। সৌদি আরামকোর একটি কার্গো সামিটের টার্মিনালে খালাসের পর সেখান থেকে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে এলএনজির মজুদ কমে যাওয়ায় সেখান থেকে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ শুক্রবার মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেটি আসার পর দুই টার্মিনাল থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তখন দুটি টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চলতি মাসে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি কার্গোর সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরামকোর আরও একটি কার্গো, ১৩ সেপ্টেম্বর পসকো, ১৬ সেপ্টেম্বর গানভোর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভোরের আরেকটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে আরও দুটি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনুমোদন পাওয়া নতুন চার কার্গোর মধ্যে একটি বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই থেকে আমদানি করা হবে। এ কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দশমিক ০৩ মার্কিন ডলার।
আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে দুটি কার্গো। এর একটির প্রতি এমএমবিটিইউ দাম ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার এবং অপরটির দাম ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভাইটল এশিয়া থেকে একটি কার্গো কেনা হবে, যার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৬ দশমিক ৬৭ ডলার।
সরকারের এই ধারাবাহিক এলএনজি আমদানির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়বে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজ বাংলা চ্যানেল