ঢাকা | বঙ্গাব্দ

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আজ প্রার্থী নিয়ে আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং | Photo Card
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আজ প্রার্থী নিয়ে আলোচনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময় আজ (শনিবার) বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই। পাশাপাশি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসবে।

রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলটির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, “শনিবারের বৈঠকের এজেন্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন থাকলেও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। মহাসচিব আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বিষয়টি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উঠবে।”

দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক বিষয়ে দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দলীয় আস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই ন্যস্ত করার সম্ভাবনা প্রবল।

একটি সূত্রের মতে, বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মত একটি প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে। আবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়ে দলীয় চেয়ারম্যানকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রার্থী নির্বাচনের ভার শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে রাখাই দলের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেনি। তবে দলীয় নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে যিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এবং যার দীর্ঘ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা বিচারিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

দলটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও, দলের একটি অংশ মনে করছে তাকে মহাসচিব পদে রেখে দলীয় রাজনীতির নেতৃত্ব অব্যাহত রাখা অধিকতর কৌশলগত হবে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এবার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো বা রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চায় না। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক জ্ঞান, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ব্যক্তিগত সততা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান—এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা